শঙ্করদেব ছত্রাকৃত মাথ শোভে কেশ তাত কপোল স্থযম আতি ৷ নাসিকা সুন্দর অধর রাতুল দর্শন মুকুতা-পাত্তি ৷৷ পদ্মপুষ্প সম বদন প্রকাশৈ সুন্দর ঈষৎ হাসি। ' গম্ভীর বচন মধু যেন শ্রবৈ নব পঙ্কজর পাসি ৷ কর্ণ দুই খান পরম সুঠাম প্রকাশে তেম কুণ্ডল। গল কম্বুকণ্ঠ সুন্দর রুচির বহু লয়ে বক্ষঃস্থল ৷ আজামু-লম্বিত দুই খান ভুজ সুন্দর পরম পুষ্ট । সুবর্ণর টার বলয়া আঙ্গুঠি দেখতে মন সন্তুষ্ট ৷৷ বহল হৃদয় হার প্রকাশ্য গায়ত পাট পাসরি । হিঙ্গুলিয়া ভূনি কটিত প্রকাশৈ শোভে নীল বর্ণোপরি ঊরু জামু জঙ্ঘা চরণ সুঠান গজর সম গমন। গুণে গুণবন্ত মহামান্যবত্ত সমস্তে লোক রঞ্জন ৷৷ সহাযশী ধীর যৌবন শরীর রূপে নোহে কেহো সরি । শঙ্করর নাম কেহো ন কাড়য় বোলে সবে ডেকাগিরি ৷৷ এই রূপবান্ গুণবান্ যুবকের সম্ভ্রম-ব্যঞ্জক মূর্তি দর্শন করিয়া, ইহাকে কেহ নাম ধরিয়া ডাকিত না । সকলে ডেকাগিরি বলিয়া আহ্বান করিত। ডেকাগিরি শাস্ত্র- পাঠ ও শাস্ত্রালোচনায় অনেক সময় অতিবাহিত করিতেন। তাঁহার পুরোহিত ও সহপাঠী রামরাম গুরু সৰ্ব্বত্র তাঁহার অনুষঙ্গী ছিলেন। উভয়ে সতত শাস্ত্রচর্চ্চা ও বিতর্ক করিয়া পরম সুখে কালহরণ করিতেন। ক্রমে শঙ্কর যোগাভ্যাস ( ১৪ ) আরম্ভ করিলেন। কঠোর সাধনার দ্বারা প্রাণ, অপান, সমান, উদান, ব্যান বায়ু বশীভূত করিলেন। ধ্যান, ধারণা, সমাধি, আসন, প্রাণায়াম প্রভৃতির সাধন করিলেন। কথিত আছে, যোগাভ্যাসে তিনি এরূপ সিদ্ধি লাভ করেন যে, শ্বাসরোধ করিয়া তিনি চারি দিবস বসিয়া থাকিতে পারিতেন। জলের ভিতরে ডুব দিয়া দীর্ঘ- কাল থাকিতেন, বাম পদের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের উপর সমস্ত দাড়াইয়া থাকিতেন। যোগাভ্যাস দ্বারা তাঁহার দেহশ্রী শরীরের ভর দিয়া বহুক্ষণ আরও সুন্দর ও সুগঠিত ব্রহ্মপুত্রে স্নান করিতে হইয়া উঠিল। তখনও তাঁহার বাল্য-চপলতা দূর হয় নাই। গিয়া তিনি রামরাম গুরুকে কহিলেন, “গুরো ! চল, ব্রহ্মপুত্র সঁতিরাইয়া পার হই ।” তৎক্ষণাৎ নৌকা সজ্জিত হইল'; ' সকলে ব্ৰহ্মপুত্রে নামিয়া সাঁতার দিলেন । নৌকা পিছু পিছু চলিতে লাগিল । একজন দুই জন করিয়া সকলেই নৌকায় উঠিয়া (১৪) গুরু কে জানা যায় না ।
পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/১৫
অবয়ব