বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

শঙ্করদেব হৃদয়ে তাঁহাকে স্মরণ করে। বিপৎসম্পাতে বৈষ্ণবদিগের মুখে এই পদটি প্রায়ই শুনা যায় :- যে করে তোমার আশ । কর তার সর্ব্বনাশ | তবু করে তোমার আশ । হও তার দাসের দাস | ভগবান, শঙ্করের সর্ব্বনাশ করিলেন ৷ যে পত্নীর প্রেমডোরে তিনি বাধা ছিলেন। -তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হেতু সংসার অনিত্য ও দুঃখময়, ইহা বুঝিয়াও তিনি যাহার মমতায় আকৃষ্ট ছিলেন, ভগবান্ তাহাকে এই পৃথিবী হইতে সরাইয়া লইলেন ৷ শঙ্করের পত্নী শঙ্করকে ত্যাগ করিয়া পরলোকে প্রস্থান করিলেন। শঙ্করের সংসারের বাসাঘরটি ভাঙ্গিয়া পড়িল—বৈরাগ্যের উদয় হইল । উদাস মনে শঙ্কর, পত্নীর শবদেহের সৎকার করিলেন, পরলোকগত আত্মার সদ- গতির জন্য শ্রাদ্ধ-তর্পণাদি যথাবিহিত অনুষ্ঠান করিলেন । পিতার মৃত্যুতে যে আগুন ধরিয়াছিল, মাতার মৃত্যুর পর যাহা ধুমায়মান হইয়া জ্বলিতেছিল, এইবার তাহা দপ্ করিয়া জ্বলিয়া উঠিল ৷ ধনসম্পত্তি শঙ্কর দুই হাতে বিলাইয়া দিতে আরম্ভ করিলেন ৷ হৃষ্টপুষ্ট বৎস সহ তিন শত ধেই ছিল, তাহা রাখালদিগকে দান করিলেন—চাষের জন্য ষাটি জোড়া বলদ ছিল, তাহা বিতরণ করিলেন। অন্য সম্পত্তি সমস্ত খুল্ল- পিতামহ জয়ন্ত ও মাধবকে সমর্পণ করিলেন, কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে জামাতা হরির গৃহে রাখিয়া, তীর্থ ভ্রমণোদ্দেশে শঙ্কর স্বদেশ ত্যাগ করিলেন । দ্বিতীয় প্রবন্ধ । স্বজন-বিয়োগে পাশমুক্ত বিহঙ্গের হ্যায় শঙ্করদেব গৃহ ত্যাগ করিয়া উন্মুক্ত সংসার- ক্ষেত্রে পরিভ্রমণ করিতে আরম্ভ করেন। তাঁহার চরিত-গ্রন্থে উল্লিখিত হইয়াছে :- দ্বাদশ বৎসর তীর্থ করি ফুরিলন্ত ৷ অনন্তরে আসি নিজ গৃহক পাইলন্ত ৷ এই দ্বাদশ বৎসরকাল তিনি কোন্ কোন্ তীর্থে কত কাল বাস করিয়াছিলেন, তাহার কোনও বিবরণ পায়া যায় না। তাঁহার 'চরিত গ্রন্থগুলিতে তৎকর্তৃক শ্রীক্ষেত্রে জগন্নাথ দর্শন ও বিশ্বৎকাল বাসের কথা ব্যতীত বিশেষ কিছুই লিপিবদ্ধ হয় নাই।