বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

শঙ্করদেব ১৫ রাখিয়াছেন। সুতরাং জগদীশ মিশ্রের নিকট শঙ্করদের শ্রীমদ্ভাগবত পাইয়াছিলেন, এইরূপ সিদ্ধান্ত করা যায় না। বলেন, গীতা-শাস্ত্র সম্বন্ধে দৈত্যারিঠাকুর এক অদ্ভুত গল্প রচনা করিয়াছেন। তিনি ঐ গ্রন্থ শঙ্করদেব ব্রহ্মপুত্র গর্ভে প্রাপ্ত হন এবং উহার স্পর্শে তাঁহার একটি ছিন্ন কর্ণ জোড়া লাগিয়া যায় । এই সকল বৃত্তান্ত হইতে প্রকৃত সত্য অবধারণ করা সুকঠিন। প্রাচীন কামরূপ তন্ত্রশাস্ত্রের বীজভূমি । এই কামরূপে বহু তন্ত্র ও উপপুরাণ রচিত হইয়াছিল । শঙ্করদেবের সমকালে কামরূপের ব্রাহ্মণসমাজে শিক্ষাবিষয়ে দৈন্য পরিলক্ষিত হইলেও এরূপ মনে করিবার কোনও হেতু নাই যে, গীতা ও ভাগবত তৎকালে এ দেশে সম্যক্‌ অপরিজ্ঞাত ছিল। গ্রন্থ ছিল বটে, কিন্তু চর্চ্চা ছিল না। তীর্থভ্রমণের পর দেশে আসিয়া শঙ্করদেব শ্রীমদ্ভাগবতের পদরচনা ও উহার প্রচারে প্রবৃত্ত হন। সুতরাং সিদ্ধান্ত করিতে হইবে যে, তীর্থভ্রমণকালে শঙ্করদের শ্রীমদ্ভাগবতাদি ভক্তিশাস্ত্রের বিশেষ চর্চ্চা করিয়া স্বীয় ধর্মমত গঠন করিয়াছিলেন । তৎকালে আসাম আসামের বৈষ্ণব-সাহিত্য আমরা যত দূর পাঠ করিয়াছি, তাহাতে শ্রীক্ষেত্র ব্যতীত অন্য অন্য তীর্থের বিশেষ বিবরণ কিছুই দেখিতে পাই নাই । হইতে দলে দলে তীর্থযাত্রিগণ শ্রীক্ষেত্র যাইত, ইহার ভূরি ভূরি প্রমাণ আছে । কেহ কেহ অধ্যয়ন-মানসে কাশীতে যাইতেন, কেহ কেহ গয়ায় পিণ্ডদান করিতে যাইতেন, এরূপ উল্লেখ দেখা যায়। সুতরাং আসামের বৈষ্ণব-সাহিত্য আলোড়ন করিয়া শঙ্করদেব কোথায় শ্রীমদ্ভাগবতাদি ভক্তি-শাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়াছিলেন, তাহার নির্ধারণ সম্ভবপর হইবে না । বাঙ্গালা বৈষ্ণব-সাহিত্যে তদানীন্তন প্রধান প্রধান তীর্থ এবং কোন্ কোন্ স্থান কোন্ কোন্ শাস্ত্রের চর্চ্চার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল, তাহা সবিস্তারে লিপিবদ্ধ হইয়াছে ৷ তদ্বারা এইরূপ প্রতীতি হয় যে, শ্রীমদ্ভাগবত চর্চ্চা অতি অল্প স্থানেই হইত । তখন প্রধান প্রধান শিক্ষার কেন্দ্রভূমিতে দর্শন ও বেদান্তের চর্চ্চাই বিশেষ প্রবল ছিল। চৈতন্যভাগবতকার বৃন্দাবনদাস লিথিয়াছেন, তৎকালে গীতা ভাগবত যে জনাতে পঢ়ায় ৷ ভক্তির ব্যাখ্যান নাই তাহার জিহ্বায় ॥ বস্তুতঃ দাক্ষিণাত্য ব্যতীত বৈষ্ণব-প্রভাব তখন অন্যত্র ছিল না বলিলেই হয়। বৃন্দাবন ত তখন বিজন অরণ্যে পূর্ণ। মথুরাও মুসলমানদিগের অত্যাচারে বিধ্বংশপ্রায় শঙ্করদেবের —