বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

দৈবকীনন্দন এক শঙ্করদেব গীতা ও ভাগবতচর্চ্চা করিতে করিতে শঙ্করদেব ভাবিতে লাগিলেন :- দৈবকীনন্দনে কৈলা থাক । বেদমাত্র শাস্ত্র এক কৰ্ম্ম এক তান সেবা মন্ত্র এক তান নাম জানিবা নিশ্চয় করি আক ৷৷ ইয়াক না জানি নরে ঘোর সংসারত মরে নান দুঃখ কৰ্ম্মক আচরি। কৃষ্ণগুণ নাম ধৰ্ম্ম লোকত প্রচার করো সুখে যাউক সংসার নিস্তরি ৷ শুভক্ষণে শ্রীমন্ত শঙ্কর এই সাধু সংকর হৃদয়ে ধারণ করিলেন এবং কৃষ্ণকথা আপামর সাধারণের মধ্যে প্রচারের জন্য শ্রীমদ্ভাগবতের অনুবাদে প্রবৃত্ত হইলেন ৷ কথিত আছে, ত্রিহুতদেশীয় জগদীশ মিশ্র নামক এক ব্রাহ্মণ জগন্নাথ কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হইয়া শ্রীক্ষেত্র হইতে শঙ্করদেবকে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করিয়া শুনাইতে আগমন করেন। তিনি আসিয়া দেখিলেন, শ্রীমন্ত শঙ্কর শুধু শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করিয়াছেন, এমন নহে, উহার মূল সূত্রগুলি ব্যাখ্যা করিয়া পদ পর্য্যন্ত রচনা করিয়া রাখিয়াছেন। ভাষায় রচিত পদগুলি আবার এরূপ সহজবোধ্য ও বিশুদ্ধ হইয়াছে যে, ঐগুলি দেথিয়া তাঁহার বিস্ময়ের সীমা রহিল না । টেম্বুয়ানিবন্ধের হোঙ্করা কুঞ্ছিরা গিরির পুত্র গয়াপাণি তীর্থযাত্রীদের সমতি- ব্যাহারে শ্রীক্ষেত্রে গিয়াছিলেন। তিনি আঢ্য লোকের সন্তান ; সুতরাং তাঁহার সঙ্গীরা জগন্নাথ দর্শনের পর অন্যান্য তীর্থে যাইতে সোৎসাহে তাঁহাকে অনুরোধ করিতে লাগিল । তীর্থ ভ্রমণে তাঁহারও অনিচ্ছা ছিল না। কথিত আছে, আর তীর্থভ্রমণ না করিয়া স্বদেশে ফিরিয়া আসিতে ইনি জগন্নাথ কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হন। গয়াপাণি এইরূপ স্বপ্নাদেশের মর্ম্ম বুঝিতে পারিলেন না; কিন্তু আদেশ পালন করি- লেন। দেশে ফিরিয়া আসিয়া তিনি একদা শঙ্করদেব যে গৃহে বসিয়া রামরাম গুরু ও জগদানন্দের সহিত কৃষ্ণকথার আলোচনা করিতেছিলেন, তথায় উপস্থিত হইলেন এবং শঙ্করদেবের সহিত কথাপ্রসঙ্গে এই শ্লোকটী আবৃত্তি করিলেন : - তত্রৈব গঙ্গা যমুনা চ তত্র গোদাবরী তত্র সরস্বতী চ। সৰ্ব্বাণি তীর্থাণি বসন্তি তত্র যত্রাচ্যুতোদারকথা প্ৰসঙ্গঃ ॥ গয়াপাণি শ্লোক পাঠ করিলেন বটে, কিন্তু অর্থ করিতে পারিলেন না । তখন শঙ্করদেব এই শ্লোকের এইরূপ ব্যাখ্যা করিলেন :-