২৬ শঙ্করদেব যথা তরোর্ম্মলনিষেচনেন তৃপ্যন্তি তৎস্কন্ধভুজোপশাখাঃ । প্রাণোপহারশ্চ যথেন্দ্রিয়ানাং তথাচ সৰ্ব্বার্চ্চনমচ্যুতেভ্যঃ ॥ অর্থাৎ— বৃক্ষমূলে জল দিলে ডালে পত্রে পুষ্পে ফলে সমস্তরে তৃপিতি হোয়য় । প্রাণের ভোজনে যেন ইন্দ্রিয় তৃপিতি হোয়ে কৃষ্ণের পূজনে দেবগণ ৷ মাধব কুতার্কিক ছিলেন না। তাই পরাজিত হইয়া তিনি যাহা সত্য বলিয়া অঙ্গীকার করিলেন, তাহা আঁকড়াইয়া ধরিলেন। পথে যাইতে যাইতে তিনি ভগ্নীপতিকে কহিলেন, “তুমি শঙ্করদেবের নিকট আজ আমায় আনিয়া বড় উপকার করিলে । আমার বোধ হইতেছে, তোমার কৃপায় যিনি জ্ঞান-রশ্মিতে অজ্ঞানান্ধ চক্ষু উন্মীলন করেন, আমি সেই পরম গুরুর সাক্ষাৎ পাইলাম ।” মাধবের দেবীপূজা আর হইল না। অষ্টমী তিথি সমাগত দেখিয়া তিনি ধূপ, দীপ ও তাম্ব লসহকারে নৈবেদ্য রচনা করিলেন এবং রামরাম গুরুর সন্নিহিত হইয়া বলিলেন, “গুরো ! এই নৈবেদ্য তুমি শ্রীকৃষ্ণ উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করিয়া দাও।” রামরাম গুরু সহাস্যে মাধবের গৃহে আসিয়া নৈবেদ্য উৎসর্গ করিলেন। সেই উৎসৃষ্ট নৈবেদ্য লইয়া মাধব শঙ্করদেবের নিকট উপস্থিত হইলেন । শঙ্কর, দেব কহিলেন, “কি হে মাধব ! কাল তোমার দেবীপূজা হইবে, আজ যে নৈবে লইয়া আসিলে !” মাধব দণ্ডবৎ প্রণিপাত করিয়া কহিলেন, “প্রভো! এ দেবীর প্রসাদ নহে । এই নৈবেদ্য রামরাম গুরু শ্রীকৃষ্ণ-উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করিয়া দিয়াছেন।” একথা শুনিয়া শঙ্করদের আহ্লাদে পুলকিত হইয়া উঠিলেন এবং পুত্র রামানন্দকে ডাকিয়া বলিলেন, “বৎস ! এই প্রসাদ তুলিয়া রাখ ৷ - আমি স্বয়ং ইহা ভক্ষণ করিব।” এইরূপে মাধব-বিজয় সম্পন্ন হইল । তথন শঙ্করদেব রামরামগুরু প্রভৃতিকে ডাকিয়া বলিলেন, “মাধবের বুদ্ধি স্থির হইয়াছে, তোমরাও সকলে তাহার সহিত শ্রীকৃষ্ণের শরণ লও । ” এখন হইতে প্রকাশ্যে দীক্ষা আরম্ভ হইল । মাধব, রামদাস, শঙ্করের জামাতা হরি প্রভৃতি একান্তমনে শ্রীকৃষ্ণের শরণ লইলেন । শঙ্করদেব মাধবকে এই উপদেশ করিলেন, শঙ্করে বোলন্ত মাধবের মুখ চাই ৷ ভগবতি নির্গু ণার পৃথক্ সাধন । প্রথমতে মহন্তর সুশ্রূষা করিবেক । কহিবন্ত ধর্ম্ম ধরিবন্ত শুদ্ধমতি ৷ ভকতির সাধন সৎসঙ্গ বিনে নাই ৷৷ সৎসঙ্গ ভক্তির কথা শুনা দিয়া মন ৷৷ শুদ্ধভাব দেখি তান কৃপা মিলিৰেক ॥ হরিকথা প্রসঙ্গত উপজিব রতি ॥
পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৩১
অবয়ব