বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

শঙ্করদেব 29 কৃষ্ণ হৈবেক প্রেম দৃঢ়ভক্তি জাত ৷ কৃষ্ণর পরম কৃপা হৈবে তাক প্ৰতি । দেহ ব্যতিরেকে আত্মা জানিবা সাক্ষাত ৷ সৰ্ব্বজ্ঞতা আদি গুণ মিলিবে সম্প্ৰতি ॥ মাধব-বিজয়ের কথা চারি দিকে রাষ্ট্র হইল । শাক্তসমাজে হুলস্থূল পড়িয়া গেল। শ্রীধর ভট্টাচার্য্য, কবিরাজ মিশ্র বামনাচার্য্য, রত্নাকর কন্দলি প্রভৃতি অগ্রণী ব্যক্তিরা অন্যান্য সামাজিক দিগকে আহ্বান করিয়া সভা পাতিয়া বসিলেন। সকলেরই মুখে একই কথা, ‘শঙ্কর গোমস্তা নাকি ভক্তির পথ প্রকাশ করি- তেছে ? যদি সকলেই এক শরণিয়া হইয়া পড়ে, দেবীপূজাদি ক্রিয়াকাণ্ড না করে, তবে ধৰ্ম্ম রহিল কোথায় ? ” শ্রীধর ভট্টাচার্য্যের কিছু তর্ক-শাস্ত্রে অধিকার ছিল। তিনি সকলকে আশ্বস্ত করিয়া কহিলেন, “ভয় নাই, শঙ্করের উদ্ভাবিত সমস্ত মতে দোষারোপ করিয়া তাহা খণ্ডন করিব; নিশ্চয় বলিতেছি, তোমরা তাহা দেখিতে পাইবে ৷” শঙ্করদেবকে তর্কযুদ্ধে আহ্বান করিয়া প্রশ্রয় দেওয়া অকর্তব্য মনে করিয়া, ব্রহ্মানন্দ ভট্টাচাৰ্য্য কহিলেন, “শঙ্কর সামান্য লোক, উহার সহিত আবার বিচার কি ? একাকী বসিয়া যাহা ইচ্ছা করুক, তোমরা কেহ উহার কথায় কান দিও না। তাহা হইলে লজ্জা পাইয়া সে আপনা আপনি নিরস্ত হইবে।” কবিরাজ মিশ্র বোধ হয়, শ্রীমদ্ভাগবতের কথা কিছু কিছু শুনিয়া- ছিলেন এবং সম্ভবতঃ তিনি শঙ্করদেবের ভগবদ্ভক্তিরও কিছু কিছু পরিচয় পাইয়া- ছিলেন। তিনি বলিলেন, “না হে না, শঙ্করকে এরূপ তাচ্ছিল্য করিলে চলিবে না। শঙ্কর পরমপণ্ডিত ও ভগবদ্ভক্ত । ভাগবতে উক্ত হইয়াছে যে, নিত্য- কৰ্ম্মানুষ্ঠানশীল ব্রাহ্মণ হইতেও ভগবদ্ভক্ত বহুগুণে শ্রেষ্ঠ ।” কহিলেন,–“ভাল ভাল ! যদি শঙ্করকে বিচারে পরাস্ত আমি বলি, এক কাজ কর। ‘ভকত’দিগকে দেখিলেই নিন্দা করিতে আরম্ভ কর। বিস্তর নিন্দাবাদ শুনিতে শুনিতে ‘ভকতের দল' তাহাদের মত অবশ্য‍ই ত্যাগ করিতে বাধ্য হইবে।” এই কথায় অনেকেই “সাধু! সাধু!” বলিয়া সম্মতিসূচক উচ্চ চীৎকার করিয়া উঠিলেন । ইহাতেও যদি ‘ভকতদিগের' দমন না হয়, তখন অন্য উপায় উদ্ভাবিত হইবে।' তখন রত্নাকর কন্দলি করিতে পারা নাই যায়, সভা ভঙ্গ হইল, সকলেই ঘরে ঘরে চলিয়া গেলেন ; কিন্তু কাহারও মনে শান্তি রহিল না ।

মাধবদেব দেবীপূজা ত্যাগ করিয়া কৃষ্ণভক্ত হইলে পর ক্রমেই একটি দুইটি করিয়া লোক শঙ্করোপদেশে শ্রীকৃষ্ণপদে শরণ লইতে আরম্ভ করিল। ভিকত- দিগের' সংখ্যা যতই বাড়িতে লাগিল, ততই বৈষ্ণবাচারের ঘটা বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। এ দিকে শাক্তেরাও তাঁহাদের সংকল্পিত উৎপীড়ন আরম্ভ করিলেন।