বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

শঙ্করদেব ২৯ প্রস্তাবে সম্মত হইলেন । তাঁহার মনে কিছু অভিমানও জন্মিল। কারণ, তিনি ভাবিলেন, উপস্থিত পণ্ডিত-সমাজের মধ্যে তাঁহাকে শ্রেষ্ঠ মনে করিয়াই শঙ্করদেব তাঁহার ব্যবস্থাপ্রার্থী হইয়াছেন। কথনের জন্য স্বয়ং প্রস্তুত হইয়া রহিলেন । সুতরাং তিনি শঙ্করদেবের প্রিয়বাক্য শঙ্করদেব জিজ্ঞাসা করিলেন, “পাপী লোকের শাস্ত্রীয় কর্ম্মানুষ্ঠানের অধিকার আছে, না নাই ?” কন্দলী কহিলেন, “পাতকীর কোনও কর্ম্মে অধিকার নাই।” শঙ্করদেব জিজ্ঞাসার ভাবে অন্যান্য ব্রাহ্মণদিগের দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন । সকলেই সম্মতি সূচক মন্তকান্দোলন করিলেন । শঙ্কর। পাতকীর হরিনাম গ্রহণে অধিকার আছে, না নাই ? কন্দলী। হরিনাম গ্রহণে সকলেরই অধিকার আছে। শঙ্করদেব আবার ব্রাহ্মণমণ্ডলীর দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন। আবার মস্তকান্দোলনে সকলে সম্মতি দিলেন। -শঙ্কর। পাতকী ব্যক্তির প্রদত্ত ভোজ্য গ্রহণ করা যাইতে পারে কি ? কন্দলী। পাপীর বস্তু গ্রহণে পাপ হয় । এবারও মাথা নড়িল । তখন শঙ্করদেব বুঢ়া খাঁকে ডাকিলেন । বুদ্ধ বুঢ়া খাঁ ‘গৃহীত ইৰ কেশেষ মৃত্যুনা' ধর্ম্ম আচরণ করিতেছিলেন। তিনি আসিয়া কম্পিতকলেবরে দণ্ডায়মান হইলে শঙ্করদেব কহিলেন, “এই ব্রাহ্মণ প্রভুরা বলিতেছেন, পাপীর কোন কৰ্ম্মে অধিকার নাই এবং পাপীর প্রদত্ত অন্ন গ্রহণীয় নহে। আপনি এই শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান করিয়াছেন । অনুগ্রহপূর্বক অকপটে বলুন, আপনি পাপী, না পুণ্যাত্মা।” বৃদ্ধ বুঢ়া খাঁ, “বাবা, আমি আবার পুণ্যাত্মা । আমি ঘোর পাপী।” এই বলিয়া কাঁপিতে কাঁপিতে বসিয়া পড়িলেন ৷ তখন শঙ্করদেব দণ্ডায়মান হইয়া উচ্চৈঃস্বরে কহিলেন “প্রভুগণ ! এই ব্যক্তি স্বয়ং বলিতেছেন, ইনি পাপী ; সুতরাং ইঁহার পিতৃলোকের কর্ম্মে অধিকারই নাই । আর আপনারা ইহার অন্ন ভোজন করিয়াছেন । সুতরাং আপনাদেরও পাপস্পর্শ হইয়াছে। এখন দেখিতেছি, এক হরিনাম গ্রহণ ব্যতীত আপনাদের আর কোনও কর্ম্মে অধিকার নাই । অতএব একবার হরিধ্বনি করুন।” এই বলিয়া শঙ্করদেব হরিবোল হরিবোল, বলিতে লাগিলেন । অমনি সমস্ত ভক্তগণ হরিবোল হরিবোল বলিয়া কীৰ্ত্তন আরম্ভ করিয়া দিলেন। হরিনামের উচ্চ ধ্বনিতে শ্রাদ্ধবাসর কম্পিত হইল—আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়িল । আসামে হরিনামের বিজয়-বৈজয়ন্তী উড্ডীন হইল ।