বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

1 শঙ্করদেব ৩৩ বন্দনা টি হরিশ্চন্দ্র উপাখ্যান ( ২৫) তাঁহার শৈশব রচনা । এই পুঁথির পাঠ করিলেই বুঝা যায়, তখনও কৃষ্ণ-নামে তাঁহার দৃঢ়তা জন্মে নাই ৷ হরিশ্চন্দ্র কর্তৃক রাজস্থর যজ্ঞের অনুষ্ঠান ও তদুপলক্ষে বিশ্বমিত্র ঋষিকে সমগ্র রাজ্যদান ও আত্মবিক্রয় দ্বারা দক্ষিণা সংগ্রহ এই সকল কাৰ্য্যই এই উপাখ্যানে প্রকৃতিপুঞ্জ সহ হরিশ্চন্দ্রের সশরীরে স্বর্গারোহণের হেতুভূত বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে কিন্তু :- তন্ত্র মন্ত্র যজ্ঞ যত হরিনাম অধিক সরাতে। তপ তীর্থ কোটি শত ( কীৰ্ত্তন ৪৭৬ পৃঃ)। ইহাই উত্তরকালে শঙ্করদেব ও তাঁহার ভক্তগণ কর্তৃক উদ্‌গীত হইয়াছিল। এক হরিশ্চন্দ্র-উপাখ্যান ব্যতীত শঙ্করদেব আর যাহা কিছু লিথিয়াছেন তৎসমস্তই ভক্তিশাস্ত্রমূলক । শেষ বয়সে রাজা নরনারায়ণের অনুরোধে তিনি সমগ্ৰ কৃষ্ণলীলা একটি কবিতায় নিবদ্ধ করিয়া "কৃষ্ণগুণমালা” রচনা করেন । ভক্তিশাস্ত্রের প্রচারে শঙ্করদেবের আজীবনব্যাপী প্রয়াস বহু ফলোপধায়িনী হইয়াছিল। একেত তাঁহার কবিত্বশক্তি অতুলনীয় তদুপরি বিশ্বাসের দৃঢ়ত। ও ভক্তিতত্ত্বের প্রচারে ঐকান্তিকত। হেতু তাঁহার রচনা সৰ্ব্বত্ৰ মৰ্ম্মস্পর্শী হইয়াছে । পৌরাণিক বৃত্তান্তসকল বর্ণনায় তিনি শুধু মূলের অনুবাদ করিয়াছেন এমন নহে ; প্রায়শঃ বিভিন্ন পুরাণবর্ণিত বৃত্তাত্তমালা একত্র গ্রথিত করিয়াছেন। তদ্বারা ঐ গুলি লোকের অধিকতর চিত্তাকর্ষক হইয়াছে। তাঁহার রচনায় যে যে স্থলে মূল শ্লোকের অনুবাদ দেখা যায়, ঐ গুলি তদপেক্ষা উৎকৃষ্টতররূপে কেহই পদ্যে অনুবাদ করিতে পারিবেন কি না সংশয়স্থল। তাঁহার রচনার আর একটী বিশেষত্ব এই যে, ঐ গুলিতে স্বকপোল কল্পিত কথার সংমিশ্রণ অধিক নহে। ইহার ফলে তাঁহার রচনা তর্কস্থলে প্রমাণরূপে ব্যবহৃত হইয়াছে । কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বাসী ৮ বৎসরের অক্লান্ত পরিশ্রমে “চৈতন্য চরিতামৃত” রচনা (২৫ ) ‘হরিশ্চন্দ্র উপাখ্যানের' প্রাচীন হস্তলিখিত পুঁথিতে ৬.. শতেরও অধিক পদ দেখিতে পাওয়া যায় । সংশোধিত মুদ্রিত গ্রন্থে ও ১২টি পদ আছে ৷ ৬০৪ সংখ্যক পদটা এই :- 'চয়ালের বাণি হেন মনে জানি, মনে হৈবা পরিতোষ। " ১৩১১ সালের কার্ত্তিক মাসের 'প্রদীপ' দ্রষ্টব্য। ' "