বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

80 শঙ্করদেব বে করিরাছিলেন। তাঁহার গুরু জীব গোস্বামী বৃন্দাবনে ঐ গ্রন্থ প্রচার করিতে দেন নাই । তিনি এই বলিয়া আপত্তি করেন যে, সমগ্র ভক্তিশাস্ত্রের সার ঐ গ্রন্থে ভাষায় নিবদ্ধ হইয়াছে । উহা পাঠ করিয়া লোকে অনায়াসে ভক্তিতত্ত্ব বুঝিতে পারিবে। তৎপরে মূলশাস্ত্র পাঠে কাহারও আগ্রহ থাকিবে না। শঙ্করদেব কর্তৃক ভাষায় শাস্ত্রগ্রন্থ প্রচারে কেছুই এইরূপ বাধা দিতে পারেন নাই । ফলে আসামের বৈষ্ণব-সমাজের মধ্যে শঙ্কর-মাধব রচিত কীর্তন, দশম নাম-ঘোষা প্রভৃতিই শাস্ত্রে পরিণত হইয়াছে। ঐ গুলি যে সকল মূল সংস্কৃত পুরাণাদি হইতে সঙ্কলিত হইয়াছে, তাহার চর্চ্চা এক প্রকার নাই বলিলেই চলে। গোস্বামীর নির্দ্ধারিত প্রণালীর উপকারিতা থাকিতে পারে; কিন্তু জ্ঞানবোধ- সুলভ ও অনায়াসলভ্য হইলে তাহারও যে কিছু শুভফল না আছে এমন নহে । শঙ্কর-মাধব রচিত ভক্তিশাস্ত্র গুলি আপামর সাধারণের মধ্যে যেরূপ বহুল প্রচারিত হইয়াছে তাহা ভাবিলে বিস্মিত হইতে হয়। ঐ পুঁথিগুলির অসংখ্য পদ লোকের মুখে মুখে সতত উচ্চারিত হইতেছে। ঐ গুলির অর্থবোধের জন্য জটিল ও দার্শনিক টীকা নিষ্প্রয়োজন। আবৃত্তিমাত্র ঐ গুলি বোধগম্য হইয়া থাকে। 'অধুনা সংস্কৃতশাস্ত্রাদি মুদ্রিত ও জনুবাদসহকারে প্রচারিত হওয়ায় তর্কস্থলে শঙ্কর মাধবের উক্তির মূল নির্দ্দেশেও অন্তরায় উপস্থিত হয় না । শঙ্করদেব কর্তৃক ভক্তিশাস্ত্রের প্রকাশহেতু শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব লোকসমাজে প্রচারিত লাগিল। তদুপরি রাম রাম গুরু, মাধব, রামদাস প্রভৃতি মহা মহা ভক্তদের সহিত নাম-কীৰ্ত্তন, কৃষ্ণ কথা - প্রসঙ্গ চলিতে লাগিল । শঙ্কর ভক্তিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করিতে লাগিলেন—লোকে সাগ্রহে শুনিতে লাগিল—কীৰ্ত্তন ও ভাওনার আনন্দে সকলে মাতিয়া উঠিতে লাগিল— দ্রুতবেগে দেশে ভক্তিধর্ম্মের প্রচার হইতে লাগিল । আমরা পূর্ব্বে বলিয়াছি যে, শঙ্করদেব বড়পেটা অঞ্চলে অধিষ্ঠান করিলে পরই তাঁহার প্রবর্তিত ধৰ্ম্ম বহুল প্রচারিত হইয়াছিল। উপর আসামেও তিনি বহুকাল ধৰ্ম্ম প্রচার করিয়া ছিলেন। কিন্তু উপর আসামে তিনি নিরুপদ্রবে বাস করিতে পারেন নাই। স্থানে স্থানে তিনি দীর্ঘকাল ছিলেন বটে, কিন্তু ধর্ম্মপ্রচারে তাঁহাকে নানা বিঘ্ন ও বিপত্তির সহিত দৃঢ়তা সহকারে কঠোর সংগ্রাম করিতে হইয়াছিল ।