বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

80 , আসা একেলগে যবে বাঁও বৃন্দাবন । শঙ্করদেব ষি সব ভক্তির ভাগ কৰিছো বেকত। আছে বৃন্দাবন দাস হয়ে। দরিশন | হুই মুই পুছি তান্ত লৈবাহা সম্মত ॥(৩২) এতদ্বারা রূপ-সনাতন ও বৃন্দাবন দাস প্রভৃতির প্রতি তাঁহার যথোচিত শ্রদ্ধার ভাবই প্রকাশ পায় । বস্তুতঃ শঙ্করদে। ধৰ্ম্ম প্রচারে চৈতন্তের প্রতিদ্বন্দ্বী হইলেও তৎপ্রতি অশ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। শ্রীকৃষ্ণ-চৈত্যচন্দ্ৰ অ'ছন্ত যথাত । তাঁহার চরিত গ্রন্থে উক্ত হইয়াছে— ভৈলন্ত শঙ্কর-সূর্য্য প্রবেশ তথাত ৷ এই বাক্যটিতে উভয় মহাত্মারই স্বরূপ যথাসঙ্গত উক্ত হইয়াছে বোধ হয়। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য চন্দ্রের ন্যায় কোমল মধুরদর্শন : প্রমের গলিত ধার', আর শঙ্কর সূর্যের ন্যায় তেজঃপূর্ণ উজ্জ্বল - জ্ঞানের প্রথর রশ্মি । শঙ্করদেবের জীবদ্দশাতে চৈতন্য-প্রবর্তিত ধর্ম্মের তরঙ্গ আসাম হইতে বুন্দাবন পর্যস্ত এবং চট্টগ্রাম হইতে শ্রীক্ষেত্র পর্য্যন্ত পরিব্যাপ্ত হইয়াছিল। শঙ্করদেব তাতা অনবগত ছিলেন না, কিন্তু দেখা যাব, রূপ-সনাতন ও বৃন্দাবন দাসের প্রতিই তাঁহার আকর্ষণ অধিক, ইহার কারণ কি ? রূপ ও সনাতনই চৈতন্য-প্রবর্তিত ধর্ম্মের ব্যাখ্যা করিয়াছেন। বৃন্দাবন দাস চৈতন্য ভাগবতের লেখক । সুতরাং ইহারা সকলেই শঙ্করদেবের ন্যায় জ্ঞান-চর্চ্চায় নিযুক্ত ; কেহই জ্ঞানশূন্য ভক্তিমার্গের পথিক নহেন ! শঙ্করদেব কর্তৃক চৈতন্যদর্শন উল্লেখ করিয়া কণ্ঠভূষণ লিথিয়াছেন :- T চৈতন্য গোসাইক তথা ভৈল দরিশন। দুইকে দুই ন৷ চাহিলা নাহিকে সম্ভাষণ ৷৷ মুহুর্তে মানে দুয়ো চাহি আছিলন্ত । নিবর্ত্তিয়া আসি বাদা ঘরে রহিলন্ত ॥ দৈত্যারি ঠাকুর এই বৃত্তান্ত আরও কিছু সবিস্তারে বর্ণনা করিয়াছেন :— শঙ্করর নাম শুনি কৃষ্ণচৈতন্যর । দুয়ার মুখত আছি রহিলস্ত চাই। শঙ্কররো নয়নর নীর বহে ধাঁরে । মিলিল আনন্দ বাক্স ভৈলন্ত মঠর ৷ দুয়ো নয়নর নীর ধারে বহি যাই ৷ পথ হৈতে নিরখিয়া আছম্ভ সাদরে । ( ৩২ ) মাধবদেবের কৌশলে শঙ্করদেব বৃন্দাবন গমনে নিরস্ত হন। যদি তিনি যাইতেন, তাহা হইলে সম্ভবত: আসাম ও বঙ্গের বৈষ্ণব সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পার্থক্য দূরীভূত হইয়া উভয় সম্প্রদায়ের একীকরণ হইয়। যাইত। অন্ততঃ বাঙ্গলা বৈষ্ণব-সাহিত্যে শঙ্করদেব ও তদনুসঙ্গী ভক্তদের বিবরণী পাওয়া যাইত । অন্যপকে মহাপুরুষীয় সাম্প্রদায়িক সাহিত্যে বৃন্দাবনবাসী ভক্তদের বিবরণ সম্বন্ধেও দৈন্য লক্ষিত হইত না ।