বিজ্ঞাপিকা
এই ‘শঙ্করদেব’ নিবন্ধের সহিত আমার একটু সম্পর্ক ছিল—তাই এস্থলে দুএকটি কথার অবতারণা আবশ্যক মনে করিতেছি।
এখন যাহা বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদের গৌহাটি শাখারূপে পরিচিত, আজ কিঞ্চিদধিক একাদশ বর্ষ পূর্ব্বে তাহা গৌহাটি বঙ্গসাহিত্যানুশীলনী সভা নামে সংস্থাপিত হয় এবং আমি ইহার অধ্যক্ষ নিযুক্ত হইয়াছিলাম। তদানীং আসাম- তেজপুরপ্রবাসী লেখক মহাশয় আমারই সনির্ব্বন্ধ অনুরোধে “শঙ্করদেব” সম্বন্ধীয় প্রবন্ধগুল পাঠ এবং আলোচনার্থে ঐ সভায় প্রেরণ করিয়াছিলেন।
গৌহাটি সাহিত্যানুশীলনী সভার প্রথম বর্ষের কার্য্য বিবরণীতে সভাকর্ত্তৃক প্রকাশিত ও প্রকাশয়িতব্য তিনখানি গ্রন্থের কথা বিজ্ঞাপিত হয়। প্রথম, “তর্ক-বিজ্ঞান”; ইহা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইণ্টারমিডিয়েট্ পরীক্ষায় “লজিক” বিষয়ে অন্যতর, পাঠ্যরূপে নির্ব্বাচিত হইয়া বাঙ্গালা পুস্তকের পক্ষে অনন্যসাধারণ গৌরবের অধিকারী হইয়াছে। দ্বিতীয়, “হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি”; ইহা বিজ্ঞাপনের অল্পসময় পরেই সর্ব্বত্র ভূমিকাসহ প্রকাশিত হইয়া নানা পত্রিকার অশেষ প্রশংসা লাভ করিয়া ধন্য হইয়াছে, এবং যাঁহার অর্থব্যয়ে ইহা মুদ্রিত হইয়াছিল, হেরম্বরাজমন্ত্রিবংশসম্ভূত সেই উদারমতি ব্যক্তির রাজসম্মান লাভে এই দণ্ডবিধিও বোধ হয় কিঞ্চিৎ সহায়তা করিয়াছিল। তৃতীয়, “শঙ্করদেবের জীবন-চরিত”; উক্ত বঙ্গসাহিত্যানুশীলনী সভার সঙ্গে মদীয় সম্পর্কের কিঞ্চিৎ শৈথিল্য নিবন্ধন, তাহা সভাকর্ত্তৃক প্রকাশিত হইতে পারে নাই; তবে রঙ্গপুর পরিষৎ-পত্রিকায় ইহার প্রকাশের ব্যবস্থা করিয়া কথমপি সঙ্কল্প রক্ষা করিয়াছিলাম। সম্প্রতি সুহৃদ্বর্য্য প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব রায় সাহেব শ্রীযুক্ত নগেন্দ্র নাথ বসু মহোদয়ের মধ্যবর্ত্তিতায় কায়স্থকুলপাবন শঙ্করদেবের এই জীবনচরিত বঙ্গদেশীয়-কায়স্থ-সভা কর্ত্তৃক সভার মুখপত্র ‘কায়স্থ-পত্রিকা’য় ঈষৎ পরিবর্ত্তিতাকারে প্রকাশিত হইয়া অধুনা পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইতেছে দেখিয়া আমি নিরতিশয় আনন্দলাভ করিয়াছি; বিশেষতঃ আসাম-গৌহাটির সাহিত্যানুশীলনী সভা হইতে না হইয়া কলিকাতাস্থিত বঙ্গদেশীয়-কায়স্থ-সভা কর্ত্তৃক প্রকাশিত হওয়া যে গ্রন্থের পক্ষে সমধিক শ্লাঘ্য বিষয়, তাহাতে অনুমাত্রও সন্দেহ নাই।
বাঙ্গালা ভাষায় অসামীয় মহাত্মবিশেষের জীবনচরিত প্রকাশের প্রযত্ন বোধ হয় এই প্রথম— সয়মারম্ভঃ শুভায় ভবতু। ইতি
| গৌহাটি বৈশাখ, ১৩২৭। |