বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

শঙ্করদেব 89 পশ্চাৎ গিয়াছিলেন। দুইটি নিঃসম্বল ভক্ত কাহারও নৌকায় স্থান না পাইয়া ক্ষুণ্ণমনে বসিয়াছিল। মাধবদের উহাদিগকে তদবস্থ দেখিয়া স্বীয় নৌকার কিছু দ্রব্য নদীতে ফেলিয়া দিয়। নৌকায় ঐ ভক্ত দুইটির স্থান করিয়াছিলেন। শঙ্করদেবের প্রভাবে বৈষ্ণবদিগের পরস্পরের মধ্যে কিরূপ প্রীতিবন্ধন হইয়াছিল, এই ক্ষুদ্র ঘটনাতেই তাহার পরিচয় পাওয়া যায় । শঙ্করদেব বর্ত্তমান বড়পেটা অঞ্চলে নৌকা ত্যাগ করিয়া পালন্দী (৩৪) নামক স্থানে রহিলেন। মাধব বরাদি গ্রামে (৩৫) বুঢ়াদলৈর গৃহে কিছুকাল থাকিয়া নিজ বড়পেটাতে বাস করিলেন। দুই তিনবার স্থান ত্যাগ করিয়! শঙ্করদেব “জগৎ পবিত্র পাটবাউসী” সত্রে অধিষ্ঠিত হন। তৎকালে ঐ স্থানের অবস্থা কিরূপ ছিল কণ্ঠভূষণ তাহার এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন :— বেত বাঁশ তার। বনে ব্যাপি আছে বড়পেট। গ্রাম ঘুরি। কোন খানে ঘর বাড়ী সাজাইবস্তু শঙ্করে চাহন্তে ফুরি ৷ গণক পারাত ঘর সাজাইলন্ত কতোদিন বঞ্চি তাত । কুমার পারাত ঘর সাজাইলন্ত মিলিল দুঃখ মনত তাহার দক্ষিণে ঘর সাজাই লন্ত মনত আতি হরিষে । পাটবাউসী সত্ৰ নামত প্রসিদ্ধ সৰ্ব্বজনে যাকে ঘোষে ৷৷ ক্রমে নানা স্থান হইতে ভক্তগণও তথায় আসিতে লাগিলেন। রাম রাম গুরু গোঁসাই দামোদর হরি গুরু বদিশন্ত। জয়ন্তি মাধব রতিকান্ত দলৈ রাম রায় আসিলস্ত ৷৷ হরিদাস বাণিয়া বুড়া দৈবজ্ঞ আর মহাকালী রাম । উহার গোবিন্দ বলভদ্র আরু বসিলস্ত বলরাম ৷ (৩৪) এই স্থান বর্ত্তমান বড়পেটার অন্তর্ভূক্ত । ইহাতে 'চূণপড়া' ভিটি আছে । স প্ৰতি ঐ ভিটিতে ১৪ হাত দীর্ঘ ১. হাত, প্রস্থ ইটের দেওয়াল আছে। চারি কোণে চারিটি গম্বুজ। পশ্চিমদিকে দ্বারহীন প্রবেশ-পথ। উহার উপরেও দুইটি গম্বুজ। দ্বারের দুই পার্শ্বে কাষ্ঠনিৰ্ম্মিত জয়-বিজয়ের প্রতিমূর্ত্তি । এই ভিটিতে প্রত্যহ রাত্রিতে প্রদীপ দেওয়া হইয়া থাকে। (৩৫) বৰ্ত্তমান বড়পেটা সত্ৰ হইতে এই স্থান প্রায় ১ মাইল দূরবর্তী 1