৫২ শঙ্করদেব চারি গড়মলি যাই আন শঙ্করক । করিব বিচার এত নিষ্ঠু হই যেবে ৷ অনাচার করি নষ্ট করিল রাজ্যক । ছাইবো দামা সত্যে শঙ্করের ছালে তেবে নিষ্ঠ করি বোলে৷ মাংস হেঙ্গালে খুয়াইবে।। শঙ্করের হাড়ে নিষ্ঠে অগনি পুরাইবো। L দেওয়ান চিলারায় শঙ্করদেবের হিতৈয়ী ছিলেন। * ইনি বৈষ্ণবদিগের প্রতিও প্রীতিভাবাপন্ন ছিলেন। ইহারই অনুবর্ত্তী তইয়া শঙ্করদের “সীতাসম্বর নাটক” রচনা করেন। শঙ্কদেবের জ্যেষ্ঠ পুত্র রামানন্দকে ইনি রাজ-সরকারে একটী কৰ্ম্মও দিয়াছিলেন। দৈত্যরি ঠাকুর লিখিয়াছেন, স্বয়ং শঙ্করদেব — কতো দিন ঘরে আছিয়া শঙ্করে বেহারক লাগি গৈ । আসিলন্ত যাই চিলা রায় ঠাই কারথানার দলৈ হৈ ॥ ইহা কিরূপ কারখানা স্পষ্ট বুঝা যায় না। কিন্তু ইহা শঙ্করদেবের অর্থাগমের একটা উপায় ছিল । তিনি পাটবাউসী হইতে প্রত্যহ তাস্তিকুচি স্থিত এই কারখানায় যাইতেন। শঙ্করদেবকে ধরিয়া আনিবার জন্য কঠোর রাজাদেশ প্রচার হইবামাত্র শঙ্করদেব, পুত্র রামানন্দ ও চিলারায়ের নিকট হইতে সংবাদ পাইলেন এবং রাজ-প্রেরিত গড়মলি আসিয়া পৌছিবার পূর্ব্বেই সতর্কত৷ অবলম্বন করিলেন। তাঁহাকে না পাইয়া গড়মপিরা ভক্ত নারায়ণদাস ও গোকুল চাঁদকে ধরিয়া লইয়া গেল । ভক্তদ্বয় হরিনাম করিতে করিতে বন্দীভাবে রাজসভায় উপস্থিত হইলেন । “শঙ্করদেব কোথায় ?” পুনঃপুনঃ জিজ্ঞাসিত হইয়াও ইহারা কিছুই বলিতে পারিলেন না। ইঁহারা সত্য গোপন করিতেছেন মনে করিয়া রাজা ইহাদের প্রতি উৎপীড়নের আদেশ করিলেন । নয়নানন্দ কোটোয়াল ইহাদিগকে লইয়! গেল; চারিজন খাঁড়াধারী লোক ইহাদের উপর বহু অত্যাচার করিল কিন্তু কোন ফল হইল না। তখন কোটোয়াল রাজাকে জানাইল ইহারা শঙ্করদেব কোথায় প্রকৃতই জানে না। যে গড়মলি ইহাদিগকে ধরিয়া আনিয়াছিল সে অগ্রবর্ত্তী হইয়া কহিল :- বেতিক্ষণে আমি নারায়ণক ধরিলো। শঙ্করর বার্তা আরু শোধয় আমাত । ইহাদের সরলতার এই সকল বৃত্তান্ত এক অক্ষর দর্প বাণি নু শুনিলো ৷ পলাইবার শুনি খেদ করে অসংখ্যাত ॥ শুনিয়া রাজার ক্রোধ কিছু প্রশমিত হইল,
- ইনি শঙ্করদেবের ভ্রাতুষ্পুত্রী রামধায়ের এক কন্যাকে পত্নীরূপে গ্রহণ করিয়াছিলেন।