৫৪ শঙ্করদেব তাহা হইলে এই দৈত্যপুরীর প্রহ্লাদ দুটি তাঁহার রাজা হইতে একেবারে নিঃসংশয়রূপে বিদুরিত হইবে । নারায়ণদাস ও গোকুলচাদকে সুপুষ্ট ও সুন্দরদেহ দেখিরা ভূটিয়ারা সানন্দে লইয়। গেল ৷ ভক্তদ্বন্ন বিপদভঞ্জন হরিনাম স্মরণ করিতে করিতে ভূটিয়াদের সঙ্গে সঙ্গে চলিলেন। ইহাদের জ্বলন্ত ধর্মবিশ্বাসের প্রভাব ভূটিরারা সহ্য করিতে পারিল না। কথিত আছে পথে নানা দুর্নিমিত্ত দর্শন করিয়া ইহাদিগকে ‘দেব মানুষ' মনে করিয়৷ ভূটিয়ারা ফিরাইয়া দিয়া গেল। মধু ও হরিনামক দুইজন প্রহরী ভূটিয়াদের নিকট হইতে ভক্তদ্বয়কে লইয়া রাজাদেশ অপেক্ষায় এক বাজারে রহিল ৷ ভক্তদ্বয় অহর্নিশি হরিধ্বনি করিতেছেন। ভক্তিভাব দেখিয়া বিস্মিত হইল :- বাজারের লোক ইহাদের দুইর দুইত প্রাতি নামত একান্ত মতি থাকে দুরো হরিগুণ গাই । অনেক দোকানীগণে বেরি আসি সেইখানে থাকে রঙ্গে দুই হস্তকো চাই ৷ কতোক্ষণ চাহি আছি মাথার নামায়া পাচি যাত যিবা বস্তু আছে জানি। চাউল ডালি বাঙ্গন মৎস্য খড়ি তৈল লোণ আগত পেল্লাই দেই আনি । রাত্রিতে দৈবাৎ নারায়ণ দাসের পদ-শৃঙ্খল খসিয়া পড়িল। নারায়ণ দাস টের পাইয়া হরিকে ডাকিয়া তুলিলেন এবং কহিলেন "আমার পায়ের শৃঙ্খল খসিয়া গিয়াছে, ভাল করিয়া লাগাইয়া দাও।” বন্দীর এইপ্রকার সাধুতা দেখিয়া হরির চিত্র চঞ্চল হইয়া উঠিল। সেই রাত্রিতেই সে স্বপ্ন দেখিল, ভক্তের উদ্ধারকারী হরি শঙ্খ চক্র-গদা-পদ্মহস্তে আবির্ভুত হইয়া ভক্তদ্বয়কে অভয় দান করিতেছেন। মধুও রাত্রিতে সেইরূপ স্বপ্ন দেখিল। পর দিবস হরি ও মধু নারায়ণদাসের পদতলে পতিত হইয়া ক্ষমা প্রার্থনা করিল এবং পূর্ব্বর স্বভাব সমস্তে এড়িয়া নিশ্চয় করিয়া মন । গুণ-চিন্তামণি পুথি আগে থৈয়া কৃষ্ণত লৈলা শরণ
পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/৫৯
অবয়ব