পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পণ্ডিত মশাই দিলেন—ও কি রে ? কুস্কমের গৌরবর্ণ মুখ একেবারে পাণ্ডুর হইয়া গিয়াছিল। সে প্রবল বেগে মাখা নাড়িয়া বলিল, কিছু না । এ-কথা তিনি বললেন ? ই্য, সে-ই বললে। মা একটা কথাও কইলেন না। তা ছাড়া তিনি কোথায় নাকি সারানি গিয়েছিলেন, তখনও নাওয়া-খাওয়া হয়নি—এমন করে আমার পানে চেয়ে রইলেন যে, কি দিলুম, কি বললুম, তা যেন বুঝতেই পারলেন না। বলিয়। কুঞ্জ নিজের মনে বার-দুই ঘাড় নাড়িয়া ধামা মাথায় লইয়া বাহির হইয়া গেল । তিন-চারদিন গত হইয়াছে, রান্না ভাল হয় নাই বলিয়া কুঞ্জ পরশু ও কাল মুখ তার করিয়াছিল, আজ স্পষ্ট অভিযোগ করিতে গিয়া এইমাত্র ভাই-বোনে তুমুল কলহু হুইয়া গেল । .يوم কুঞ্জ ভাত ফেলিয়া উঠিয়া দাড়াইয়া কহিল, এ পুড়ে যায়, ও পুড়ে যায়, আজকাল মন তোর কোথায় থাকে কুলী ? - কুলীও ভয়ানক ক্রুদ্ধ হইয়া জবাব দিল, আমি কারো দাসী নই—পারব না রাধতে—যে ভাল রোধে দেবে তাকে আনো গে। কুঞ্জর পেট জলিতেছিল, আজ সে ভয় পাইল না। হাত নাড়িয়া বলিল, তুই আগে দূর হ, তখন আনি কি না দেখিল। বলিয়া ধামা লইয়া নিজেই তাড়াতাড়ি দূর হইয়া গেল। - সেইদিন হইতে প্রাণ ভরিয়া কাদিবার জন্য কুষম ব্যাকুল হুইয়া উঠিয়াছিল, আজ এত বড় স্থযোগ সে ত্যাগ করিল না । দাদার অভুক্ত ভাতের থালা পড়িয়া রহিল, সদর দরজা তেমনি খোলা রহিল, সে আঁচল পাতিয়া রান্নাঘরের চৌকাটে মাথা দিয়া একেবারে মড়াকান্না শুরু করিয়া দিল । বেলা বোধ করি তখন দশটা, ঘণ্টাখানেক কাদিয়া কাটিয়া শ্রাস্ত হইয়া এইমাত্র ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল, চমকিয়া চোখ মিলিয়া দেখিল, বৃন্দাবন উঠানে দাড়াইয়া কুঞ্জা' ‘কুমদা করিয়া ভাকিতেছে। তাহার হাত ধরিয়া বছর-ছয়েকের একটি হৃষ্টপুষ্ট স্বন্দর শিশু। কুক্কম শশব্যস্তে মাথায় আঁচল টানিয়া দিয়া কবাটের আড়ালে উঠিয় দাড়াইল এবং সব ভুলিয়া শিশুর স্থদর মুখের পানে কবাটের ছিত্রপথে একদৃষ্টি চাহিয়া ब्रश्जि । এ যে তাহারই স্বামীরই সস্তান, তাহা সে দেখিবামাত্রই চিনিতে পারিয়াছিল। চাহিয়া চাহিয়া সহসা তাহার দুই চোখ জলে ভরিয়া গেল এবং দুই বাছ যেন সহস্ৰ >*金