পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই ব্ৰজেশ্বরী কহিল, এটা তোমাদের পাহাড়-পৰ্ব্বত ভুল। আমি যেমন তোমার্কে ভালবাসি, সেও তার স্বামীকে তেমনি ভালবালে। সে যাই হোক, চরণের জন্তেও ত সে যেতে পারে । কিন্তু সে ত বাড়লের পথ চেনে না । সেইটাই শুধু আমার ভয়, পাছে ভুল ক’রে পৌছুতে দেরি হয়। কিংবা পখে আর কোন বিপদে পড়ে, নইলে বাড়ল সাত সমুদ্র তের নদীর পারে হলেও, সে একদিন না একদিন জিজ্ঞেস করতে করতে গিয়ে উপস্থিত হবে। আমার কথা শোনো, তুমিও সেই পথ ধরে যাও। যদি পথে দেখা পাও, সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে তার স্বামীর হাতে তাকে সঁপে দিয়ে ফিরে এসে । চললুম, বলিয়া কুঞ্জ উঠিয়া দাড়াইল । আজ তাহার চকচকে বিলাতি জুতা, বহু মূল্য রেশমের চাদর এবং গগনস্পশী বিরাট চাল শ্বশুরবাড়িতেই পড়িয়া রহিল। পোড়ারমুখী কুসীর শোকে, জমিদার কুঞ্জনাথবাবু ফেরিওয়ালা কুঞ্জ বেষ্টিমের সাজে খালি পায়ে খালি গায়ে পাগলের মত কতপদে বাহির হইয়া গেল । S8 ছয়দিন হইল বৃন্দাবনের জননী স্বর্গারোহণ করিয়াছেন। মৃত্যুর পর কেহ কোন দিন এ অধিকার স্বকৃতিবলে পাইয়া থাকিলে, তিনিও পাইয়াছেন তাহা নিঃসংশয়ে लि! क्षiश्च । সেদিন তারিণী মুখুয্যের দুর্ব্যবহারে ও ঘোষাল মহাশয়ের শাস্ত্রজ্ঞান ও অভিসম্পাতে অতিশয় পীড়িত হইয়া বৃন্দাবন গ্রামের মধ্যে একটা আধুনিক ধরনের লোহার নলের কুপ প্রস্তুত করাইবার সঙ্কল্প করে। যাহার জল কোন উপায়েই কেহ দূষিত করিতে পারিবে না, এবং যৎসামান্ত আয়াস স্বীকার করিয়া আহরণ করিয়া লইয়া গেলে সমস্ত গ্রামবাসীর অভাব মোচন করিয়া দুঃসময়ে বহুপরিমাণে মারিভয় নিবারণ করিতে সক্ষম হইবে, এমনি একটা বড় রকমের কূপ, যত ব্যয়ই হৌক, নিৰ্মাণ করাইবার অভিপ্রায়ে সে কলিকাতায় কোন বিখ্যাত কল-কারখানার ফারমে পত্র লিখিয়াছিল, কোম্পানী লোক পাঠাইয়াছিলেন, জননীর মৃত্যুর দিন সকালে তাঁহারই সহিত বৃন্দাবন কথাবার্তা ও চুক্তি-পত্র সম্পূর্ণ করিতেছিল। বেল প্রায় দশটা, দাসী জন্ত ব্যস্ত হইয়া বাহিরে আলির কহিল, দাদাবাৰু, এত বেলা হয়ে গেল, মা কেন দোর খুলচেন না ? 》