পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পণ্ডিত মশাই তারিণী লাথি মারিয়া পা ছাড়াইয়া লইয়া পিশাচের হালি হাসিয়া, কহিলেন, সদ্ধ্যেআহিক না করে জলগ্ৰহণ করিনে। কেমন, ফলল কিনা | নিৰ্ব্বংশ হলি কি না । , বৃন্দাবনের কান্না শুনিয়া তারিণীর স্ত্রী ছটিয়া আসিয়া নিজেও কাদিয়া ফেলিয়া স্বামীকে বলিলেন, ছি ছি, এমন অধৰ্ম্মের কাজ ক'রো না । যা হবার হয়েচে—আহ শিশু, নাবালক-বলে দাও গোপালকে ওষুধ দিক । তারিণী খি'চাইয়া উঠিল-তুই থাম মাগী । পুরুষ মানুষের কথায় কথা ক’লনে। তিনি খতমত খাইয়া বৃন্দাবনকে বলিলেন, আমি আশীৰ্ব্বাদ কচ্চি বাবা, তোমার ছেলে ভাল হয়ে যাবে, বলিয়া চোখ মুছিতে মুছিতে ভিতরে চলিয়া গেলেন । বৃন্দাবন পাগলের মত কাতরোক্তি করিতে লাগিল, তারিণীর হাতে-পায়ে ধরিতে লাগিল, না—তবু না । এমন সময় শাস্ত্রজ্ঞ ঘোষাল মহাশয় পাশের বাড়ি হইতে খড়ম পায়ে দিয়া খটু খটু করিয়া আসিয়া উপস্থিত হইলেন । সমস্ত শুনিয়া হৃষ্টচিত্তে বলিলেন, শাস্ত্রে আছে, কুকুরকে প্রশ্রয় দিলে মাথায় ওঠে। ছোটলোককে শাসন না করলে সমাজ উচ্ছন্ন যায়। এমনি করেই কলিকালে ধর্শ্বকৰ্ম্ম, ব্রাহ্মণের সম্মান লোপ পাচ্চে—কেমন হে তারিণী, সেদিন বলিনি তোমাকে, বেন্দী বোষ্টমের ভারি বাড় বেড়েচে । যখন ও আমার কথা মানলে না, তখন জানি, ওর উপর বিধি বাম । আর রক্ষে নেই। হাতে হাতে ফল দেখলে তারিণী ? তারিণী মনে মনে অপ্রসন্ন হইয়া কহিল, আর আমি ! সেদিন পুকুর-পাড়ে দাড়িয়ে পৈতে হাতে করে বলেছিলাম, নিৰ্ব্বংশ হ । খুড়ো, আহ্নিক না করে জলগ্রহণ করিনে ! এখনও চন্দ্র-স্বৰ্য্য উঠচে, এখনও জোয়ার-ভাটা খেলচে। বলিয়া ব্যাধ যেমন করিয়া তাহার স্ব-শরবিদ্ধ ভূপতিত জন্তুটার মৃত্যু-যন্ত্রণার প্রতি চাহিয়া নিজের অব্যৰ্থ লক্ষ্যের আম্বাদন করিতে থাকে, তেমনি পরিতৃপ্ত দৃষ্টিতে চাহিয়া এই একমাত্র পুত্ৰশোকাহত হতভাগ্য পিতার অপরিসীম ব্যথা সগৰ্ব্বে উপভোগ করিতে লাগিল । কিন্তু বৃন্দাবন উঠিয়া দাড়াইল। প্রাণের দায়ে সে অনেক সাধিয়াছিল, অনেক বলিয়াছিল, আর একটি কথাও বলিল না। নিদারুণ অজ্ঞান ও অন্ধতম মূঢ়ত্বের অসহ্য অত্যাচার এতক্ষণে তাহার পুত্র-বিয়োগ-বেদনাকেও অতিক্রম করিয়া তাহার আত্মসন্ত্রমকে জাগাইয়া দিল । সমস্ত গ্রামের মঙ্গল-কামনার ফলে এই দুই স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠ ব্ৰাহ্মণের কাহার গায়ত্রী ও সন্ধ্যা-জাহকের তেজে সে নিৰ্ব্বংশ হইতে বসিয়াছে, এই বাকৃবিতণ্ডার শেষ মীমাংসা না শুনিয়াই সে নিঃশৰে ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল, এবং বেলা দশটার সময় নিকুৰি শান্ত-মুখে পীড়িত সন্তানের শষ্যার পার্থে আসিয়া पैंॉफ़ाईल । के६३