পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰই , শুভদা ভাবিয়া চিন্তিয়া বলিল, বেশ ত । পিলিমার শ্বশুরবাড়িতে র্তার কতক জমি-জমা আছে, সেগুলা আমিই পেয়েচি, দু-একদিনের মধ্যেই সেখানে গিয়ে আমাকে সব দেখে-শুনে নিতে হবে। শুভদা বলিল, তা ত নিশ্চয়, না হলে কে আর দেখবে ? তাই মনে করেছি যে, আমার ধানের গোলাটা এখানেই রাখব, না হলে চুরি যেতে পারে । শুভদা ভিতরের কথা বুঝিল না। বলিল, এতদিন ত চুরি যায়নি। না যাক, কিন্তু এখন ত যেতে পারে । শুভদা চুপ করিয়া রহিল। ইহার দুই-একদিনের মধ্যেই সদানন্দর ধানের গোলা, কলাইয়ের মরাই, আলুর বোঝা, নারিকেল ডাই, গুড়ের জাল সমস্ত একে একে সরিয়া আসিয়া মুখুয্যে-পরিবারে স্থান গ্রহণ করিল। দেখিয়া শুনিয়া শুভদা বলিল, সদানন্দ, লোকে কি বলবে ? সদানন্দ হাসিয়া উত্তর দিল, জিনিস আমার, লোকের নয় । আমি এখানে খাই, এখানে থাকি, আমার জিনিস-পত্রও থাকবে । বাস্তবিক পাড়ার পাচজনও পাচরকম কথা কহিতে লাগিল, কেহ বলিল, হারাণের বোঁ সদাপাগলাকে যাদ্ধ করিয়াছে ; কেহ কহিল, সদানন্দ একেবারে পাগলা হইয়া গিয়াছে ; কেহু বা এমন কথাও রটাইল যে, ছলনার সহিত সদার বিবাহ হইতেছে। সদানন্দ এ-কথা শুনিয়া মনে মনে হাসিল, যে সম্মুখে এ-কথা উত্থাপন করিল তাহাকে হাসিমুখে একটা রামপ্রসাদী গান শুনাইয়া দিল, কাহাকে বা রসিকতা করিয়া বলিল, আমি মরিলে তোমার নামে দু'বিঘা জমি লিখিয়া দিয়া যাইব, কাহাকে বা ঈষৎ গম্ভীরভাবে বলিল, পাগলা মানুষে পাগলামি করে সেজন্য তোমরা ভাবিও না । ক্রমশ: লোকে মুখ বন্ধ করিতে লাগিল, তবে যাহারা ঈর্ষাপরতন্ত্র তাহারা মনে মনে জলিতে লাগিল । ভবতারণ গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় এ-কথা শুনিয়া সদানন্দকে ডাকিয়া বিশেষ করিয়া উপদেশ দিয়া দিলেন । বিশেষরূপে উপদিষ্ট হইয়া সদানন্দ দুঃখিতভাবে বলিল, যা হবার তা হয়েচে ; এখন পিসিমার শ্বশুরবাট হতে ফিরে এসে ধানের গোলাটা আপনার বাটীতে রেখে যাব । গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় বিষম ক্রুদ্ধ হইয়া বলিলেন, ওহে সদানন্দ, তোমার পিতাও আমাকে মাঙ্গ করে চলতেন । - আমিও কোনরূপ অমান্ত করি নাই। তবে এমন কথা বললে কেন ? সদানন্দ অপ্রতিতভাবে কহিল, আমার সব সময়ে মতিস্থির থাকে না।

  • br