পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐীকান্ত উঠি । বৰ্ম্মায় ভালো চাকরি করি এ খবরটা তাহারা আগের বারেই পাইয়াছিলেন । রাঙালি অতিশয় স্নেহ করিতে লাগিলেন এবং আত্মীয়-জ্ঞানে পুটু ঘণ্টখানেকের মধ্যেই ঘনিষ্ঠ হুইয়া উঠিল । কারণ, আমি ত আর পর নই ! বেশ মেয়েটি । সাধারণ ভদ্রগৃহস্থ ঘরের, ফর্স না হোক, দেখিতে ভালোই । ঠাকুর্দা তাহার গুণের বিবরণ দিয়া শেষ করিতে পারেন না এমনি অবস্থা ঘটিল। লেখাপড়ার কথায় রাঙাদিদি বলিলেন, ও এমনি গুছিয়ে চিঠি লিখতে পারে যে, তোদের আজকালকার নাটক-নভেল হার মানে । ও-বাড়ির নন্দরাণীকে এমনি একখানি চিঠি লিখে দিয়েছিল সে, সাতদিনের দিন জামাই পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে এসে পড়ল । রাজলক্ষ্মীর উল্লেখ কেহ ইঙ্গিতেও করিলেন না। সেরূপ ব্যাপার ষে একটা ঘটিয়াছিল তাহা কাহারও মনেই নাই । পরদিন দেশের স্টেশনে গাড়ি থামিলে আমাকে নামিতেই হইল। তখন বেলা বোধ করি দশটার কাছাকাছি । সময়ে মানাহার না করিলে পিত্ত পড়িবার আশঙ্কায় দু’জনেই ব্যাকুল হইয়া উঠিলেন। বাড়িতে আনিয়া আদর-যত্বের আর অবধি রহিল না। পুটুর বর যে আমিই পাঁচ-সাতদিনে এ সম্বন্ধে গ্রামের মধ্যে আর কাহারো সন্দেহ রহিল না ! এমন কি পুটুরও না। ঠাকুর্দার ইচ্ছা আগামী বৈশাখেই শুভকৰ্ম্ম সমাধা হইয়া যায় । পুটুর ষে যেখানে আছে আনিয়া ফেলিবার কথা উঠল। রাঙাদিদি পুলকিত চিত্তে কছিলেন, মজ দেখেচ, কে যে কার ছাড়িতে চাল দিয়ে রেখেচে আগে থাকতে কারও বলবার জো নাই । আমি প্রথমটা উদাসীন, পরে চিন্তিত, তারপর ভীত হইয়া উঠিলাম । সায় দিয়াছি কি দিই নাই -ক্রমশ: নিজেরই সন্দেহ জন্মিতে লাগিল । ব্যাপার এমনি দাড়াইল যে, না বলিতে সাহস হয় না, পাছে বিত্র কিছু একটা ঘটে । পুটুর মা এখানেই ছিলেন, একটা রবিবারে হঠাৎ বাপও দেখা দিয়ে গেলেন । আমাকে কেহু যাইতেও দেয় না, আমোদ-আহ্নাদ ঠাট্ট-তামাসাও চলে—পুটু যে ঘাড়ে চাপিবেই, শুধু দিন-ক্ষণের অপেক্ষা–উত্তরোত্তর এমনি লক্ষণই চারিদিক দিয়া মুস্পষ্ট হইয়া উঠিল। জালে জড়াইতেছি—মনে শাস্তিও পাই না-জাল কাটিয়া বাহির হইতেও পারি না। এমনি সময়ে হঠাৎ একটা সুযোগ ঘটিল। ঠাকুর্দা জিজ্ঞাসা করিলেন, আমার কোন কোষ্ঠী অাছে কিনা। সেটা ত দরকার । vß