পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ একদিন এইখানেই বিযুক্ত হইয়াছে। একত্রবাসের সেই ক্ষণস্থায়ী দিনগুলি শ্রদ্ধায় গভীর, স্নেহে মধুর, আনন্দে উজ্জল, জাবার তাদের মতই নিঃশব বেদনায় নিরতিশয় স্তব্ধ। বিচ্ছেদের দিনেও আমরা প্রবঞ্চনার পরিবর্তে কেহ কাহাকেও কলঙ্কলিপ্ত করি নাই, লাভ-ক্ষতির নিষ্ফল বাদপ্রতিবাদে গঙ্গামাটির শাস্ত গৃহধানিকে আমরা ধূমাচ্ছন্ন করিয়া আসি নাই । সেখানের সবাই জানে আবার একদিন আমরা ফিরিয়া আসিব, জাবার গুরু হইবে আমোদ-আহ্নাদ, গুরু হইবে ভূম্বামিনীর দ্বীনদরিদ্রের সেবা ও সৎকার। কিন্তু সে সম্ভাবনা যে শেষ হইয়াছে, প্রভাতের বিকশিত মল্লিকা দিনাস্তের শাসন মানিয়া লইয়া নীরব হইয়াছে, এ কথা তাহারা স্বপ্নেও ভাবে না। চোখে ঘুম নাই, বিনিদ্র রজনী ভোরের দিকে যতই গঙ্গাইয়া আসিতে লাগিল ততই মনে হইতে লাগিল, এ বাত্ৰি যেন না পোহায় । এই একটিমাত্র চিন্তাই এমনি করিয়া যেন আমাকে মেঘাচ্ছন্ন করিয়া রাখে । বিগত কাহিনী ঘূরিয়া ঘুরিয়া মনে পড়ে, বীরভূম জেলার সেই তুচ্ছ কুটারখানি মনের উপর ভূতের মত চাপিয়া বসে, অনুক্ষণ গৃহকৰ্ম্মে নিযুক্ত রাজলক্ষ্মীর স্নিগ্ধ হাত দুটি চোখের উপর স্পষ্ট দেখিতে পাই, এ জীবনে পরিতৃপ্তির আস্বাদন এমন করিয়া কখনো করিয়াছি বলিয়া স্মরণ হয় না । এতকাল ধরাই পড়িয়াছি, ধরিতে পারি নাই । কিন্তু আজ ধরা পড়িল রাজলক্ষ্মীর সবচেয়ে বড় দুৰ্ব্বলতা কোথায় । সে জানে আমি সুস্থ নই, যে কোন দিন অসুখে পড়িতে পারি, তখন কোণাকার কে এক পুটু আমাকে বিরিয়া শয্যা জুড়িয়া বসিয়াছে, রাজলক্ষ্মীর কোনো কর্তৃত্বই নাই, এত বড় দুর্ঘটনা মনের মধ্যে সে ঠাই দিতে পারে না। সংসারের সবকিছু হহতেই নিজেকে সে বঞ্চিত করিতে পারে, কিন্তু এ বস্তু অসম্ভব,–এ তাহার অসাধ্য। মরণ তুচ্ছ, এর কাছে রহিল তাহার গুরুদেব, রহিল তাহার জপতপ-ব্ৰত-উপবাস । সে মিথ্যা ভয় আমাকে চিঠির মধ্যে দেখায় घाँहै । ভোরের সময় বোধ করি ঘুমাইয়া পড়িয়াছিলাম, রতনের ডাকে যখন জাগিয়া উঠিলাম তখন বেলা হইয়াছে। সে কহিল, কে একটি বুড়ো ভদ্রলোক ঘোড়ার গাড়ি করে এইমাত্র এলেন । এ ঠাকুর্দা । কিন্তু গাড়ি ভাড়া করিয়া ? সন্দেহ জন্মিল । রতন কহিল, সঙ্গে একটি সতেরো-আটারো বছরের মেয়ে আছে । এ পুটু । এই নির্লঙ্গ মানুষটা তাহাকে কলিকাতার বাসায় পৰ্য্যন্ত টানিয়! জানিয়াছে। সকালের আলো তিক্ততায় মান হইয়া উঠিল । বলিলাম, তাদের এই ११