পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শশধর কিছু বললে না ? না, কিছু না । কিন্তু সেও তো বেশী বড় নয়—তার বাপ-মা বেঁচে আছে কিনা। তা বটে, শশধরের বিয়ে হয়ে গেছে ? পুটু ব্যগ্র হইয়া কহিল, না এখনো হয়নি। শুনচি নাকি শীগগির হবে। আচ্ছ, সেখানে তোমার বিয়ে হলে তারা যদি তোমাকে ভালো না বাসে ? আমাকে ? কেন ভালবাসবে না ? আমি যে রাধাবাড়া, সেলাই করা, সংসারের সব কাজ জানি। আমি একলাই তাদের সব কাজ করে দেবো । এর বেশী বাঙালী-ঘরের মেয়ে কি-ই বা জানে। কায়িক পরিশ্রম দিয়াই সে সমস্ত অভাব পূরণ করিতে চায়। জিজ্ঞাসা করিলাম, তাদের সব কাজ নিশ্চয় করবে ত ? ই, নিশ্চয় করব । তা হলে তোমার মাকে গিয়ে ব’লে, শ্ৰীকান্তদাদা আড়াই হাজার টাকা পাঠিয়ে দেবে । আপনি দেবেন ? তা হলে বিয়ের দিনে যাবেন বলুন ? ই, তাও যাবে। ! দ্বার প্রাস্তুে ঠাকুর্দার সাড়া পাওয়া গেল। কোচায় মুখ মুছিতে মুছিতে তিনি প্রবেশ করিলেন—তোক পায়খানাট ভায়া ! শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করে । রতন গেল কোথায়, এক কলকে তামাক দিক না । 3. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষ বড় সত্য এই যে, মানুষকে সন্ধুপদেশ দিয়া কখনো ফললাভ হয় না। সৎ পরামর্শ কিছুতেই কেহ শুনে না। কিন্তু সত্য বলিয়াই দৈবাৎ ইহার ব্যতিক্রমও আছে । সেই ঘটনাট বলিব । ঠাকুর্দা দাত বাহির করিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিয়া অতি হৃষ্টচিত্তে প্রস্থান করিলেন, পুটু বিস্তর পায়ের ধূলা গ্রহণ করিয়া আদেশ পালন করিল, কিন্তু তাহারা চলিয়া গেলে আমার পরিতাপের অবধি রহিল না। সমস্ত মন বিদ্রোহী হইয়া কেবলি তিরস্কার করিতে লাগিল যে, কে ইহারা যে বিদেশে চাকরি করিয়া বহু দুঃখে যাহ-কিছু সঞ্চয় করিয়াছি তাহাই দিয়া দিব ? বেীকের মাথায় একটা কথা বলিয়াছি বলিয়াই দাতাকর্ণগিরি করিতেই হুইবে, তাহার অর্থ কি ? কোথাকার কে এই মেয়েট 는