পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ব্যতিক্রমের উদাহরণ । জগতে এই একটিমাত্রই নিজের চোখে দেখিয়াছি। কারণ নিঃসম্পৰ্কীয় অপরিচিত হতভাগ্য মেয়ের বাপের কান মলিলেই যেখানে টাকা আদায় হয় সেখানে বৈষ্ণব সাজিয়! হাতজোড় করিয়া বাঘের গ্রাস হইতে নিস্তার পাওয়া যায় না। নিষ্ঠুর নির্দয় বলিয়া গালিগালাজ করিয়া সমাজ ও অদৃষ্টকে ধিক্কার দিয়া ক্ষোভ কিঞ্চিৎ মিটিতে পারে, কিন্তু প্রতিকার মিলে না। কারণ, প্রতিকার বরের বাপের হাতে নাই, সে আছে মেয়ের বাপেরই নিজের হাতে । 位 গহরের খোজে আসিয়া নবীনের সাক্ষাৎ মিলিল । সে আমাকে দেখিয়া খুশী হইল, কিন্তু মেজাজটা ভারী রুক্ষ ; বলিল, দেখুন গে ঐ বোষ্টমী বেটীদের আডডায় । কাল থেকে ত ঘরে আসাই হয়নি । সে কি কথা নবীন ! বোষ্টমী এলো আবার কোথা থেকে । একটা ? একপাল এসে জুটেচে । কোথা থাকে তারা ? ঐ ত মুরারিপুরের আখড়ায় । এই বলিয়া নবীন হঠাৎ একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, হায় বাবু, আর সে রামও নেই, সে অযোধ্যাও নেই। বুড়ো মথুরোদাস বাবাজী ম’লো, তার জায়গায় এসে জুটল এক ছোকরা বৈরাগী, তার গণ্ডা-কম্বেক সেবাদাসী। দ্বারিকদাস বৈরাগীর সঙ্গে আমাদের বাবুর খুব ভাব, সেখানেই ত প্রায় থাকেন । আশ্চর্ঘ্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম,কিন্তু তোমার বাবু ত মুসলমান, বৈষ্ণব-বৈরাগীর তাদের আখড়ায় ওকে থাকতে দেবে কেন ? নবীন রাগ করিয়া কহিল, ঐসব আউলে-বাউলেগুলোর ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম জ্ঞান আছে নাকি ? ওরা জাত-জন্ম কিছুই মানে না, ষে কেউ ওদের সঙ্গে মিশলেই ওরা দলে টেনে নেয়, বাচ-বিচার করে না । জিজ্ঞাসা করিলাম, কিন্তু লেবার যখন তোমাদের এখানে ছ'-সাতদিন ছিলাম তখন ত গহুর ওদের কথা কিছুই বলেনি ? নবীন বলল, বললে যে কমলিলতার গুণাগুণ প্রকাশ হয়ে পড়ত। সে-কয়দিন বাৰু আখড়ার কাছেও যায়নি। আর ধেই আপনি চলে গেলেন, বাবুও অমনি ধাতা-কাগজকলম নিয়ে আখড়ায় গিয়ে ঢুকলেন । প্রশ্ন করিয়া করিয়া জানিলাম দ্বারিক বাউল গান বাধিতে, ছড়া রচনা করিতে ●१