পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত করবে না, এই বলিয়া সে হাসিয়া চলিয়া গেল । একাকী বসিয়া অন্যান্ত বৈষ্ণবীদের কাজ দেখিতে লাগিলাম। বাস্তবিকই তাহাদের সময় নষ্ট করিবার সময় নাই, আমার দিকে কেহ ফিরিয়াও চাহিল না। মিনিট-দশেক পরে কমললতা যখন ফিরিয়া আসিল তখন কাজ শেষ করিয়া সকলে উঠিয়া গিয়াছে। জিজ্ঞাসা করিলাম, তুমি মঠের কত্রী নাকি ? কমললতা জিভ কাটিয়া কহিল, আমরা সবাই গোবিন্দজীর দাসী—কেউ ছোট বড় নেই। এক-একজনের এক-একটা ভার, আমার ওপর প্রভু এই ভার দিয়েচেন । এই বলিয়া সে মন্দিরের উদ্দেশে হাতজোড় করিয়া কপালে ঠেকাইল । বলিল, এমন কথা আর কখনো মুখে এনে না । বলিলাম, তাই হবে । আচ্ছা, বড়গোসাই, গহরগোসাই এদের দেখচিনে কেন ? বৈষ্ণবী কহিল, র্তারা এলেন বলে, নদীতে স্বান করতে গেছেন । এই রাত্রে ? আর ঐ নদীতে ? বৈষ্ণবী বলিল, ই । গহরও ? ই, গহরগোঁসাইও । কিন্তু আমাকেই স্নান করালে না কেন ? বৈষ্ণবী হাসিয়া বলিল, আমরা কাউকে স্নান করাইনে, তারা আপনি করে । ঠাকুরের দয়া হলে তুমিও একদিন করবে, সেদিন মানা করলেও শুনবে না। বলিলাম, গহর ভাগ্যবান, কিন্তু আমার ত টাকা নেই, আমি গরীব লোক – আমার প্রতি হয়ত ঠাকুরের দয়া হবে না । বৈষ্ণী ইঙ্গিতট বোধ হয় বুঝিল এবং রাগ করিয়া কি যেন একটা বলিতে গেল, কিন্তু বলিল না। তারপরে কহিল গহরগোসাই যাই হোন কিন্তু তুমিও গরীব নয়। অনেক টাকা দিয়ে যে পরের কন্যাদায় উদ্ধার করে ঠাকুর তাকে গরীব ভাবে না। তোমার ওপরেও দয়া হওয়া আশ্চৰ্য্য নয় । বলিলাম, তা হলে সেটা ভয়ের কথা । তবু, কপালে যা লেখা আছে ঘটবে, আটকান যাবে না—কিন্তু জিজ্ঞাসা করি কন্যাদায় উদ্ধারের খবর তুমি পেলে কোথায় ? বৈষ্ণবী কহিল, আমাদের পাচ বাড়িতে ভিক্ষে করতে হয়, আমরা সব খবর গুনতে পাই । কিন্তু এ খবর বোধ হয় এখনো পাওনি যে, টাকা দিয়ে দায় উদ্ধার করতে আমার হয়নি ? বৈষ্ণবী কিছু বিস্থিত হইল, কহিল, না, এ খবর পাইনি। কিন্তু হ’লো কি, বিয়ে ভেঙে গেল ?