পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত অপ্রস্তুত হইয়া পড়িলাম, তবুওআস্তে আস্তে বলিলাম, আমি ত জানিনে, তাই জিজ্ঞাসা করচি, তোমরা কি সত্যই ভাবে ঐ পাথরের মূৰ্ত্তির মধ্যেই ভগবানের শক্তি এবং চৈতন্ত, তার— আমার এ কথাটাও সম্পূর্ণহইতেপাইলন, সে বলিয়। উঠিল, ভাবতে ৰাবে। কিসের জন্য গো, এ যে আমাদের প্রত্যক্ষ । সংস্কারের মোহ তোমরা কাটাতে পারো না বলেই ভাবে রক্ত-মাংসের দেহ ছাড়া চৈতন্তের আর কোনও থাকবার জো নেই। কিন্তু তা কেন ? আর এও বলি, শক্তি আর চৈতন্তের হদিস কি তোমরাই সবখানি পেয়ে বসে আছ যে, বলবে পাথরের মধ্যে তার জায়গা হবে না ? হয় গো হয়, ভগবানেরও কোথাও থাকতেই বাধা পড়ে না, নইলে তাকে ভগবান বলতে যাবো কেন বলো ত ? যুক্তি-হিসাবে কথাগুলো স্পষ্টও নয়, পূর্ণও নয়, কিন্তু এ ত তা নয়, এ তাহার জীবন্ত বিশ্বাস । তাহার সেই জোর ও অকপট উক্তির কাছে হঠাৎ কেমনধারা স্বতমত খাইয়া গেলাম, তর্ক করিতে, প্রতিবাদ করিতে সাহস হইল না, ইচ্ছাও করিল না । বরঞ্চ ভাবিলাম, সত্যিই ত, পাথরই হোক আর ষাই হোক, এমনপরিপূর্ণ বিশ্বাসে আপনাকে একান্ত সমর্পণ না করিতে পারিলে বৎসরের পর বৎসর দিনান্তব্যাপী এই অবিচ্ছিন্ন সেবার জোর পাইত ইহারা কি করিয়া ? এমন সোজা হইয়া নিশ্চিন্ত নিৰ্ভয়ে দাড়াইবার অবলম্বন মিলিত কোথায় ? ইহারা শিশু ত নয়, ছেলেখেলার এই মিথ্যা অভিনয়ে দ্বিধাগ্রস্ত মন যে শ্রাস্তিত্ব অবসাদে দু’দিনেই এলাইস্থা পড়িত । কিন্তু সে ত হয় নাই, বরঞ্চ ভক্তি ও প্রীতির অখণ্ড একাগ্রতায় আত্মনিবেদনের আনন্দোৎসব ইহাদের বাড়িম্বাই চলিয়াছে । এ জীবনে পাওয়ার দিক দিয়া সে কি তবে সবই ভুয়া, সবই ভুল, সবই আপনাকে ঠকান ৷ বৈষ্ণবী কহিল, কি গোসাই, কথা কও না যে ? বলিলাম, ভাবচি ? কাকে ভাবচ | ভাৰচি তোমাকেই । ইস্! বড় সৌভাগ্য ষে আমার ! একটু পরে কছিল, তবুও থাকতে চাও না, কোথায় কোন বর্শাদের দেশে চাকরি করতে যেতে চাও। চাকরি করবে কেন ? বলিলাম, জামার ত মঠের জমিজমাও নেই, মুগ্ধ ভক্তের দলও নেই—খাবে কি ? ঠাকুর দেবেন। কহিলাম অত্যন্ত চুরাশা। কিন্তু তোমাদেরও ষে ঠাকুরের ওপর খুব ভরসা তাও ত মনে হয় না। নইলে ভিক্ষে করতে যাবে কেন ? বৈষ্ণবী কহিল, যাই তিনি দেবার জন্যে হাত বাড়িয়ে দোরে দোরে দাড়িয়ে থাকেন 德盘