পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত মনটা বিগড়াইয়াছিল, ঠাকুরঘরে নিজেও গেলাম না, কেহ ডাকিতেও আপিল না। ঘরের মধ্যে একখানি জলচৌকির উপরে গুটিকয়েক বৈষ্ণব গ্রন্থাবলী সযত্বে সাজান ছিল, তাহারি একখানা হাতে করিয়া প্রদীপটা শিয়রের কাছে আনিয়া বিছানায় শুইয়া পড়িলাম। বৈষ্ণব-ধৰ্ম্মশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য নয়, শুধু সময় কাটাহবার জন্য ! ক্ষোভের সহিত একটা কথা বারবার মনে হইতেছিল, কমললতা সেই যে গিয়াছে আর আসে নাই। ঠাকুরের সদ্ধারতি যথারীতি আরম্ভ হইল, তাহার মধুর কণ্ঠ বার বার কানে আসিতে লাগিল এবং ঘুরিয়া ফিরিয়া কেবল সেই কথাটাই মনে হইতে লাগিল, কমললতা সেই অবধি কোন তত্ত্বই আমার লয় নাই। আর সেই ভ্রা-ওয়ালা লোকটা ! কোন সত্যই কি তাহার অভিযোগের মধ্যে নাই ? আরও একটি কথা । গহুর কৈ ? সেও ত আজ আমার খোজ লইল না ! ভাবিয়াছিলাম দিনকয়েক এখানেই কাটাইব, পুটুর বিবাহের দিনটি পর্ষ্যস্ত—সে আর হয় না। হয়ত কালই কলিকাতায় রওনা হইয়া পড়িব । ক্রমশ: আরতি ৪ কীৰ্ত্তন সমাপ্ত হইল। কল্যকার সেই বৈষ্ণবী আসিয়া আজও বঙ্ক যত্নে প্রসাদ রাখিয়া গেল, কিন্তু ষেজন্য পথ চাহিয়াছিলাম তাহার দেখা মিলিল না । বাহিরে লোকজনের কথাবাৰ্ত্ত আনাগোনার পায়ের শব্দ ক্রমশঃ শাস্ত হইয়া আসিল, তাহার আসিবার কোন সম্ভাবনা আর নাই জানিয়া আহার করিয়া হাতমুখ ধুইয়া দ্বীপ নিবাইয়। গুইয়া পড়িলাম ! বোধ করি তখন অনেক রাত্রি, কানে গেল, নতুনগোসাই ? জাগিয়া উঠিয়া বসিলাম । অন্ধকারে ঘরের মধ্যে দাড়াইয়া কমললতা ; অাস্তে আস্তে বলিল; আসিনি বলে মনে বোধ হয় অনেক দুঃখ করেচ—না গোসাই ? বলিলাম, হা, করেচি । বৈষ্ণবী মুহূৰ্ত্তকাল নীরব হইয়া রহিল, তারপরে বলিল, বনের মধ্যে ও-লোকটা তোমাকে কি বলছিল ? তুমি দেখেছিলে নাকি ?

  • ीं ।

বলছিল সে তোমার স্বামী – অর্থাৎ তোমাদের সামাজিক আচারমতে তুমি তার কম্ভিবঙ্গল-করা পরিবার । f তুমি বিশ্বাস করেচ ? না, করিনি । বৈষ্ণবী আবার ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিল, সে আমার স্বভাব-চরিত্রের ইৰিও করেনি ? করেচে । 。象减 ۹-س)s