পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীকাত্ত পদ্ধতি তোমাদের আছে—তাতে ত দোষ নেই— বৈষ্ণবী আমাকে থামাইয়া দিয়া বলিল, তোমর দূর থেকে আমাদের কেবল ঠাট্টা তামাসাই করলে, কাছে এসে কখনো ত কিছু দেখলে না, তাই সহজেই বিদ্রুপ করতে পার। আমাদের বড়গোসাইজী সন্ন্যাসী, ওঁকে উপহাস করলে অপরাধ হয় নতুনগোসাই, অমন কথা আর কখনো মুখে এনে না। তাহার কথা ও গাম্ভীর্ষ্যে একটু অপ্রতিভ হইলাম। বৈষ্ণবী তাহ। লক্ষ্য করিয়া স্থিতমুখে বলিল, দু’দিন থাকো না গোসাই আমাদের কাছে ? কেবল বড়গোসাইজার জন্যেই বলচিনে, আমাকে ত তুমি ভালোবাসো, আর কখনো যদি দেখা না-ও হয়, তবুও দেখে যাবে কমললতা সত্যিই কি নিয়ে সংসারে থাকে স্বতীনকে আমি আজে ভূলিনি—ছুদিন থাকো—আমি বলচি তোমাকে, তুমি যথার্থই খুশী হবে। চুপ করিয়া রছিলাম। ইহাদের সম্বন্ধে একেবারেই ষে কিছু জানি না তাহ নয়, জাত-বোষ্টমের মেয়ে টগরের কথাটাও মনে পড়িল, কিন্তু রহস্ত করিতে আর প্রবৃত্তি হইল না । যতীনের প্রায়শ্চিত্তের ঘটনা সকল আলোচনার মাঝখানে রহিয়া রহিয়া আমাকেও যেন উন্মনা করিয়া দিতেছিল। বৈষ্ণবী হঠাৎ প্রশ্ন করিল, ই গোসাই, এ বয়সে সত্যিই কাউকে কখনো কি ভালোবাসোনি ? - তোমার কি মনে হয় কমললতা ? আমার মনে হয়—না । তোমার মনটা হ’ল আসল বৈরাগীর মন, উদাসীনের মন-প্রজাপতির মন । বাধন তুমি কখনো কোন কালে নেবে না । হাসিয়া বলিলাম, প্রজাপতির উপমা ত ভাল হ’ল না কমললভা, ওটা ষে অনেকটা গালাগালির মত শুনতে । আমার ভালোবাসার মানুষ কোথাও যদি সত্যই কেউ থাকে, তার কানে গেলে যে অনর্থ বাধবে । বৈষ্ণবীও হাসিল, কহিল, ভয় নেই গোসাই, সত্যিই যদি কেউ থাকে আমার কথায় সে বিশ্বাসও করবে না, তোমার মধুমাখানো ফাকিও সে সারাজীবনে ধরতে পারবে না । বলিলাম, তবে তার দুঃখ কিসের । হোক না ফাকি, কিন্তু তার কাছে ত সেই जउिj श्रब्र ब्रहेज । বৈষ্ণবী মাথা নাড়িয়া কহিল, সে হয় না গোসাই, মিথ্যে কখনো সত্যির জায়গা নিয়ে থাকতে পারে না । তারা বুঝতে না পারুক, কারণটা তাদের কাছে সুস্পষ্ট না হোক, তবু অন্তরটা তাদের নিরস্তর অশ্রুমুখী হয়েই থাকে মিথ্যের কাও দেখেছি ভ। এমনি করে এ পথে কত লোকই এলো, এ পথ যাদের সত্যি নয়, জলের ধারাপথে শুকনো বালির মত সমস্ত সাধনাই তাদের চিরদিন আলগা হয়ে রইল, কখনো জমাট Wood