পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंदृशंख्र फ़ॉरी ডাক্তার হাসিমুখে কছিলেন, অনেক পরীক্ষা না দিলে কিন্তু ঠিক করে কিছুই वजां बांब नां छाडे । ভারতী ক্ষণকাল স্থির থাকিয়া সহসা জোর দিয়া বলিয়া উঠিল, এই তোমাকে আজ বলে রাখলাম দাদা, সমস্ত পরীক্ষাতেই আমি উত্তীর্ণ হতে পারবো । তোমার কাজের মধ্যে এত স্বাধ, এত সংশয়, এতবড় ক্ষুদ্রতার স্থান নেই। তাহার উত্তেজনায় ডাক্তার হাসিলেন, পরে ক্রীড়াচ্ছলে নিজের ললাটে করাঘাত করিয়া বলিলেন, হা আমার পোড়া কপাল! দেশ মানে কি বুঝে রেখেচ খানিকটা মন্ত বড় মাটি, নদ-নদী, আর পাহাড় ? একটিমাত্র অপূৰ্ব্বকে নিয়েই জীবনে ধিক্কার জন্মে গেল, বৈরাগী হতে চাও, আর সেখানে কেবল শত সহস্ৰ অপূৰ্ব্বই নয়, তার দাদারাও বিচরণ করেন । আরে পরাধীন দেশের সবচেয়ে বড় অভিসম্পাতই তো হোলো কৃতঘ্নতা ! যাদের সেবা করবে তারাই তোমাকে সন্দেহের চোখে দেখবে, প্রাণ যাদের বাচবে, তারাই তোমাকে বিক্ৰী করে দিতে চাইবে। মৃঢ়তা আর অকৃতজ্ঞতা প্রতি পদক্ষেপে তোমায় ছুঁচের মত বিধবে । শ্রদ্ধা নেই, স্নেহ নেই, সহানুভূতি নেই, কেউ কাছে ডাকবে না, কেউ সাহায্য করতে আসবে না, বিষধর সাপের মত তোমাকে দেখে লোকে দূরে সরে যাবে। দেশকে ভালবাসার এই আমাদের পুরস্কার, ভারতী, এর বেশি দাবী করবার কিছু যদি থাকে ত সে গুৰু পরলোকে। এতবড় ভয়ানক পরীক্ষা তুমি কিসের জন্যে দিতে যাবে বোন ? বরঞ্চ, আশীৰ্ব্বাদ করি অপূৰ্ব্বকে নিয়ে তুমি স্বৰী হও, আমি নিশ্চয় জানি, তার সকল দ্বিধা, সকল সংস্কার ছাপিয়ে তোমার মূল্য একদিন তার চোখে পড়বেই পড়বে। ভারতীর দুই চক্ষু জলে ভরিয়া উঠিল। কিন্তু কয়েক মুহুর্তে নীরবে নতমুখে থাকিয়া প্রবল চেষ্টায় তাহ নিবারণ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো না বলেই কোনোমতে আমাকে বিদায় করে দিতে চাও দাদা ! তাহার এই একান্ত সরল নিঃসঙ্কোচ প্রশ্নের এমনি সোজা উত্তরে বোধ হয় ডাক্তারের মুখে হাসি আসিল না, হাসিয়া বলিলেন, তোমার মত লক্ষ্মী মেয়ের মায়া কি সহজে কেউ কাটাতে পারে বোন ? কিন্তু কাল স্বচক্ষেই ত দেখতে পেলে এর মধ্যে কত লুকোচুরি, কত হিংসে, কত মৰ্ম্মাস্তিক ক্রোধ জড়িয়ে রয়েচে । তোমার পানে চাইলেই মনে হয় এ-সবের জন্তে তুমি নও, এর মধ্যে টেনে এনে তোমাকে ভাল কাজ হয়নি। শুধু তোমার কাছে কাজ আদায়ের আমার একটা দিন আছে, ৰেদিন চুটি নেবার আমার তলব এসে পৌছবে। ভারতী এবার আর তাহার চোখের জল বারণ করিতে পারিল না। কিন্তু তখনই হাত দিয়া যুছিয়া ফেলিয়া কহিল, তুমিও আর এদের মধ্যে থেকে না দাদা। Ayo