পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/২০৩

From উইকিসংকলন
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


པོ་རྡི། জলপথে শক্র-পক্ষীয় জাহাজের গতিরোধ করিবার উদ্দেশ্রে নদীর ধারে, সহরের শেষ প্রান্তে একটি ছোট রকমের মাটির কেল্লা আছে, এখানে সিপাহী-শাস্ত্রী অধিক থাকে না, শুধু ব্যাটারি চালনা করিবার জন্য কিছু গোরা গোলন্দাজ ব্যারাকে বাস করে। ইংরাজের এই নির্কিবল্প শাস্তির দিনে এখানে বিশেষ কড়া-কড়ি ছিল না । নিষেধ আছে, অষ্টমনস্ক পথিক কেহ তাহার সীমানার মধ্যে গিয়া পঞ্জিলে তাড়া করিয়াও আসে, কিন্তু ঐ পৰ্য্যন্তই । ইহারই একধারে গাছ-পালার মধ্যে পাথরে বাধানো একটা ঘাটের মত আছে, হয়ত কোন উচ্চ রাজকৰ্ম্মচারীর আগমন উপলক্ষ্যে ইহার স্বষ্টি হইয়া থাকিবে, কিন্তু এখন ইহার কাজও নাই, প্রয়োজনও নাই । ভারতী মাঝে মাঝে একাকী আসিয়া এখানে বসিত। কেল্লার রক্ষণাবেক্ষণের ভার যাহাজের প্রতি ছিল তাহাদের কেহ যে দেখে নাই তাহা নহে, সম্ভবতঃ স্ত্রীলোক বলিয়া এবং ভদ্র স্ত্রীলোক বলিয়াই আপত্তি করিত না। বোধ করি এইমাত্র স্বৰ্য্যাস্ত হইয়া থাকিবে, কিন্তু অন্ধকার হইতে তখনও কিছু বিলম্ব ছিল। নদীর কতক অংশে, এবং পরপারবর্তী গাছপালার উপরে শেষ স্বর্ণভিা ছড়াইয়া পড়িয়াছে, দলে দলে পার্থীর সারি একি হইতে ওদিকে উড়িয়া চলিয়াছে,—কাকের কালো দেহে, বকের সাদা পালকে, মুৰুর বিচিত্র পাণ্ডুর সর্বাঙ্গে আকাশের রাঙা আলো মিশিয়া হঠাৎ যেন তাহাদিগকে কোন অজানা দেশের জীব করিয়া তুলিয়াছে। তাহাদের অবাধ স্বচ্ছন্দ গতি অনুসরণ করিয়া ভারতী নিনিমেযচক্ষে চাহিয়া রহিল। কি জানি, কোথায় ইহাদের বাসা, কিন্তু সে অলক্ষ্য আকর্ষণ কাহারও এড়াইয়া যাইবার জো নাই । এই কথা মনে করিয়া দুই চক্ষু তাহার জলে ভরিয়া উঠিল। হাত দিয়া মুছিয়া ফেলিয়া চাহিয়া দেখিল দ্বর বৃক্ষশ্রেণীর সোনার দীপ্তি নিবিয়া আসিতেছে এবং মাথার উপরে গাছপালা নদীতে দীর্ঘতর ছায়াপাত করিয়া জল কালো করিয়া আনিয়াছে এবং তাহারই মধ্য হইতে অন্ধকার ষেন সুদীর্ঘ জিহবা মেলিয়া সম্বুধের সমস্ত আলোক নিঃশব্দে লেহন করিয়া লইতেছে। সহসা নদীর ডানদিকের বাক হইতে একধানি ক্ষুত্র শাম্পান নৌকা স্বমুখে উপস্থিত হইল। নৌকায় মাঝি ভিন্ন অন্ত আরোহী ছিল না । সে চট্টগ্রামী মুসলমান । ক্ষণকাল ভারতীর মুখের দিকে চাহিয়া তাহার চট্টগ্রামের দুৰ্ব্বোধ্য মুসলমানী বাঙলায় কছিল, আন্মা, ওপারে ষাৰে ? এক আনা পয়সা দিলেই পার করে দিই । ভারতী হাত নাড়িয়া কহিল, না, ওপারে আমি ষাৰো না। oboye e هس-سط