পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*म९-नीहिङा-ज१áांश् রাখা হয় নাই, সেইগুলি হাতে লাইয়া ভারতী স্নানের ঘরে প্রবেশ করিল। তাহার ইচ্ছা ছিল যাইবার পূৰ্ব্বে রোগীর সম্বন্ধে গোটা-কয়েক প্রয়োজনীয় উপদেশ দিয়া এই ছদ্ধান্ত ভয়ানক রোগের মধ্যে আপনাকে সাবধানে রাখিবার অত্যাবগুকত বারবার স্বরণ করাইয়া দিয়া যায়। হাতের কাজ শেষ করিয়া সে এই কথাগুলিই মনে মনে আবৃত্তি করিয়া এ ঘরে ফিরিয়া আসিয়া দেখিল অপূৰ্ব্ব অচেতন তেওয়ারীর অতি বিকৃত মুখের প্রতি একদৃষ্টি চাহিয়া যেন পাথরের মূৰ্ত্তির মত বসিয়া আছে, তাহার নিজের মুখ একেবারে ছাইয়ের মত সাদা। বসন্ত রোগ সে জীবনে দেখে নাই, ইহার ভীষণত তাহার কল্পনার অগম্য। ভারতী কাছে গিয়া দাড়াইতে সে মুখ তুলিয়া চাহিল। তাহার দুই চক্ষু ছলছল করিয়া আসিল এবং সেই চক্ষে পলক না পড়িতেই ঠিক ছেলেমানুষের মতই ব্যাকুলকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, আমি পারব না। S ভারতী ক্ষণকাল নীরবে থাকিয়া শুধু কহিল, পারবেন না ? তাই ত! তাহার কণ্ঠস্বরে একটুখানি বিস্ময়ের আভাস ব্যতীত আর কিছুই ছিল না, কিন্তু এই কি জবাব ? এই কি সে তাহার কাছে আশা করিয়াছিল ? হঠাৎ যেন মায় খাইয়া অপূৰ্ব্বর তন্ত্র ছুটিয়া গেল। ভারতী কহিল, তাহলে একটা খবর দিয়ে ত ওকে হাসপাতালেই পাঠাতে হয় । তাহার কথার মধ্যে শ্লেষও ছিল না, কাজও ছিল না, কিন্তু লজ্জায় অপূৰ্ব্বর মাথা ছেট হইল। লঙ্গ শুধু তাহার না পারার জন্ত নয়, যে পারে তাহাকেই পারিতে বলার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের মধ্যে লুকাইয়া আরও প্রচ্ছন্ন যে দাবী ছিল, ভারতীর শান্ত প্রত্যাখানে সে যখন কঠিন তিরস্কারের আকারে ফিরিয়া আসিয়া তাহাকে বাজিল, তখন আনতমুখে বসিয়া অত্যন্ত অনুশোচনার সহিত তাহাকে আর একবার মনে করিতে হইল, এই মেয়েটিকে সে যথার্থই চিনে নাই। দুঃখ দুশ্চিন্তা কোথাও কিছু ছিল না,—ছিল যেন কেবল কত দীপ, কত আলো জালা ;- হঠাৎ কে যেন সমস্ত একফুয়ে নিবাইয়া দিয়া অসমাপ্ত নাটকের মাঝখানে যবনিক টানিয়া দিল। ভয়ানক অন্ধকারে রহিল শুধু সে আর তার অপরিত্যজ্য মরণোন্মুখ অচেতন তেওয়ারী। ভারতী বলিল, বেলা থাকতে থাকতেই কিছু করা চাই। বলেন ত আমি যাবার পথে হাসপাতালে একটা টেলিফোন করে দিয়ে যেতে পারি। তার গাড়ি এনে তুলে নিয়ে যাবে।