পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ গোকুল পিতা-মাতার মুখের পানে চাহিয়া বিস্থিত হইল। সে বেচারা কাল রাত্রেই বিছানায় গুইয়া মনে মনে প্রতিজ্ঞ করিয়াছিল, এ-বৎসর যেমন করিয়া হোক উত্তীর্ণ হইবেই। ইস্কুল ছাড়িয়া দোকানে যাইতে কোন ছেলেই গৌরব বোধ করে না। কিন্তু কোনদিনই সে মায়ের অবাধ্য নহে। সহপাঠীদের বিদ্ধপের খোচা তাহার মনে বাজিতে লাগিল, কিন্তু সে কোন আপত্তি করিল না, নিঃশব্দে পিতার অমুসরণ করিল। S) দশ বৎসর অতিক্রম হইয়া গিয়াছে, জরাগ্রস্ত বৈকুণ্ঠ নিজেও মরিতে বসিয়াছে। কিন্তু গোকুলের সম্বন্ধে সে ভুল করে নাই, তাহা তাহার বাড়িটার পানে চাহিলেই বুঝা যায়। গল্পের ভিতর সে মুদির দোকান আর নাই। তাহার পরিবর্তে প্রকাও গোলদারী দোকান। সেখানে লাখো টাকার কারবার চলিতেছে। বিনোদ কলিকাতায় থাকিয়া এম. এ. পড়ে। বৈকুণ্ঠ নাতি-নাতনীর মুখ দেখিয়া পরম-মুখে মরিতে পারিতেন, কিন্তু কিছুদিন হইতে ছোটছেলের সম্বন্ধে নানাপ্রকার কুৎসিত জনশ্রুতিতে র্তাহার অবশিষ্ট দিনগুলা বড় ভারী হইয়া উঠিয়াছে। সেদিন সকালে বৈকুণ্ঠ জীবনের শেষ ডাক শুনিতে পাইলেন। সৰ্ব্বাঙ্গে কি একপ্রকার নূতন অস্বস্তি লইয়া জাগিয়া উঠিয়া গৃহিণীকে শয্যাপার্থে ভাকিয়া মানভাবে একটুখানি হাসিয়া কহিলেন, ছোটবোঁ, আমার ত সময় হয়েচে, তাই একটু এগিয়ে চললুম। তোমার যতদিন না আসা হয় ততদিন আমার ছেলে ছটিকে দেখো । তোমার হাতেই তাদের দিয়ে গেলুম। স্বামীর শীর্ণ হাতখানি দুই হাতের মধ্যে লইয়া ভবানী নীরবে কাদিতে লাগিলেন। বৈকুণ্ঠ কহিলেন, গোকুলকে রেখে তার মা মারা গেলে—আমার কিছুতেই আর দ্বিতীয় সংসার করবার ইচ্ছা ছিল না। আমি কোন মতেই বিয়ে করতুম না, কিন্তু যখন দেখলুম আমি এক, গোকুলকেই হয়ত বাঁচাতে পারব না, তখনই শুধু বড় কষ্টে, বড় ভয়ে ভয়ে রাজি হয়েছিলুম। ভগবান আমার মনের কথা জানতে 3 օէ,