পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অনুরাধ কিন্তু মনে হচ্ছে যেন আমি বেঁচে গেলুম ! বৌদি, চল আমি তোমাকে নিয়ে যাই । দাদার ইচ্ছে হয় রাগ করে ঘরে বসে থাকুন, কিন্তু আমরা চল তোমার বোনের পাক-দেখায় পেট-পুরে খেয়ে আসি গে। প্রভা তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া বলিল, তুমি কি আমাকে ঠাট্টা করছ ঠাকুরপো ? না বৌদি, ঠাট্টা করিনি। আজ একান্ত মনে তোমার আশীৰ্ব্বাদ প্রার্থনা করি, তোমার বরে ভাগ্য যেন এবার আমাকে মুখ তুলে চায়। কিন্তু আর দেরি করে না, তুমি কাপড় পরে নাও, আমিও অফিসের পোষাক ছেড়ে আসি গে। বলিয়া সে কৃত চলিয়া যাইতেছিল, দাদা বলিলেন, তোর নেমস্তন্ন নেই, তুই সেখানে যাবি কি করে ? বিজয় থমকিয়া দাড়াইয়া বলিল, তা বটে। তারা হয়ত লজ্জা পাবে । কিন্তু বিনা আহবানে যে কোথাও যেতেই আজ আমার সঙ্কোচ নেই, ছুটে গিয়ে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, অনিতা, তুমি আমাকে ঠকাওনি, তোমার উপর আমার রাগ নেই, জালা নেই, প্রার্থনা করি তুমি সুখী হও । দাদা, আমার মিনতি রাখে রাগ করে থেকে না, বৌদিদিকে নিয়ে যাও, অন্ততঃ আমার হয়েও অনিতাকে আশীৰ্ব্বাদ করে এসে তোমরা { দাদা ও বৌদি উভয়েই হতবুদ্ধির মত তাহার প্রতি চাহিয়া রহিল । সহসাউভয়েরই চোখে পড়িল বিজয়ের মুখের পরে বিদ্রুপের সত্যই কোন চিহ্ন নেই, ক্রোধের অভিমানের লেশমাত্র ছায়া কণ্ঠস্বরে পড়ে নাই-সত্যই কোন স্থনিশ্চিত বিপদের ফাস এড়াইয়া মন তাহার অকৃত্রিম পুলকে ভরিয়া গেছে। বোনের কাছে এ ইঙ্গিত উপভোগ্য নয়, অপমানের ধাক্কায় প্রভার অন্তরটা সহসা জলিয়া গেল, কি যেন একটা বলিতেও চাহিল, কিন্তু রুদ্ধ হইয়া রহিল । বিজয় বলিল, বৌদি, আমার সকল কথা বলবার আজও সময় আসেনি, কখনো আসবে কি-না তাও জানিনে, যদি আসে কোনদিন, সেদিন কিন্তু তুমিও বলবে, ঠাকুরপো, তুমি ভাগ্যবান ভাই ! তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করি। 〉?●