পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হত্রিলক্ষ্মী এক যাহা লইয়া এই গল্পের উৎপত্তি, তাহা ছোট ; তথাপি এই ছোট ব্যাপারটুকু অবলম্বন করিয়া হরিলক্ষ্মীর জীবনে যাহা ঘটিয়া গেল, তাহা ক্ষুদ্রও নহে, তুচ্ছও নহে। সংসারে এমনই হয়। বেলপুরের দুই সরিক, শাস্ত নদীকূলে জাহাজের পাশে জেলেডিঙ্গীর মত একটি অপরটির পাশ্বে নিরুপদ্রবেই বাধা ছিল, অকস্মাং কোথাকার একটা উড়ো ঝড়ে তরঙ্গ তুলিয়া জাহাজের দড়ি কাটিল, নোঙ্গর ছিড়িল, একমুহূৰ্ত্তে ক্ষুদ্র তরণী কি করিয়া যে বিধ্বস্ত হইয়া গেল, তাহার হিসাব পাওয়াই গেল না । বেলপুর তালুকটুকু বড় ব্যাপার নয়। উঠিতে বসিতে প্রজা ঠেঙ্গাইয়া হাজার বারোর উপরে উঠে না, কিন্তু সাড়ে-পোনর আনার অংশীদার শিবচরণের কাছে দু’পাই ংশের বিপিনবিহারীকে যদি জাহাজের সঙ্গে জেলে-ডিঙ্গীর তুলনাই করিয়া থাকি ত, বোধ করি, অতিশয়োক্তির অপরাধ করি নাই । দূর হইলেও জ্ঞাতি এবং ছয়-সাত পুরুষ পূৰ্ব্বে ভদ্রাসন উভয়ের একত্রই ছিল, কিন্তু আজ একজনের ত্রিতল অট্টালিকা গ্রামের মাথায় চড়িয়াছে এবং অপরের জীৰ্ণ-গৃহ দিনের পর দিন ভূমিশয্যা-গ্রহণের দিকেই মনোনিবেশ করিয়াছে। তৰু এমনইভাবে দিন কাটিতেছিল এবং এমনই করিয়াই ত বাকী দিনগুলা বিপিনের স্থখ-দুঃখে নিৰ্ব্বিবাদেই কাটিতে পারিত ; কিন্তু যে মেঘখণ্ডটুকু উপলক্ষ করিয়া অকালে ঝঙ্কা উঠিয়া সমস্ত বিপৰ্য্যস্ত করিয়া দিল তাহ এইরূপ। সাড়ে-পোনর আনার অংশীদার শিবচরণের হঠাৎ পত্নীবিয়োগ ঘটিলে বন্ধুরা কহিলেন, চল্লিশ-একচল্লিশ কি আবার একটা বয়স ! তুমি আবার বিবাহ কর । শত্র-পক্ষীয়রা শুনিয়া হাসিল, চল্লিশ ত শিবচরণের চল্লিশ বছর আগে পার হয়ে গেছে ! অর্থাৎ কোনটাই সত্য নয়। আসল কথা, বড়বাবুর দিব্য গৌরবর্ণ নাছস-নছস দেহ, স্বম্পষ্ট মুখের পরে রোমের চিহ্নমাত্র নাই। যথাকালে দাড়িগোফ না গজানোর স্ববিধা হয়ত কিছু আছে, কিন্তু অস্থবিধাও বিস্তর। বয়স আন্দাজ করা ব্যাপারে যাহারা নীচের দিকে যাইতে চাহে না, উপরের দিকে তাহারা যে অঙ্কের কোমকোঠায় গিয়া ভর দিয়া দাড়াইবে, তাহ নিজেরাই ঠাওর করিতে পারে না । সে যাই Ꮌ?❍