পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিন বস্তার চাপে মাটির বাধ ভাঙিতে শুরু করে, তখন তাহার অকিঞ্চিৎকর আরম্ভ দেখিয়া মনে করাও যায় না যে, অবিশ্রাস্ত জলপ্রবাহ এত অল্পকালমধ্যেই ভাঙনটাকে এমন ভয়াবহ, এমন স্থবিশাল করিয়া তুলিবে । ঠিক এমনই হইল হরিলক্ষ্মীর । স্বামীর কাছে বিপিন ও তাহার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের কথাগুলো যখন তাহার সমাপ্ত হইল, তখস তাহার পরিণাম কল্পনা করিয়া সে নিজে ভয় পাইল । মিথ্যা বলা তাহার স্বভাবও নহে, বলিতেও তাহার শিক্ষা ও মর্য্যাদায় বাধে, কিন্তু স্থনিবার জলস্রোতের মত যে-সকল বাক্য আপন ঝেণকেই তাহার মুখ দিয়া ঠেলিয়া বাহির হইয়া আসিল, তাহার অনেকগুলিই যে সত্য নহে, তাহা নিজেই সে চিনিতে পারিল । অথচ তাহার গতিরোধ করাও যে তাহার সাধ্যের বাহিরে, ইহাও অনুভব করিতে লক্ষ্মীর বাকী রহিল না । শুধু একটা ব্যাপার সে ঠিক এতখানি জানিত না, সে তাহার স্বামীর স্বভাব । তাহা যেমন নিষ্ঠুর, তেমনি প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং তেমনি বর্বর । পীড়ন করিবার কোথায় যে সীমা, সে যেন তাহ জানেই না । আজ শিবচরণ আস্ফালন করিল না, সমস্তটা শুনিয়া শুধু কহিল, আচ্ছা, মাস-ছয়েক পরে দেখো । বছর ঘুরবে না, সে ঠিক । অপমান-লাঞ্ছনার জালা হরিলক্ষ্মীর অন্তরে জলিতেছিল ; বিপিনের স্ত্রী ভালরূপ শাস্তি ভোগ করে তাহা সে যথার্থ-ই চাহিতেছিল, কিন্তু শিবচরণ বাহিরে চলিয়া গেলে তাহার মুখের এই সামান্য কয়েকটি কথা বার বার মনের মধ্যে আবৃত্তি করিয়া লক্ষ্মী মনের মধ্যে আর স্বস্তি পাইল না । কোথায় যেন কি একটা ভারী খারাপ হইল, এমনই তাহার বোধ হইতে লাগিল । দিন-কয়েক পরে কি একটা কথা প্রসঙ্গে হরিলক্ষ্মী হাসিমুখে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করিল, ওঁদের সম্বন্ধে কিছু করচ না কি ? কাদের সম্বন্ধে ? বিপিন ঠাকুরপোদের সম্বন্ধে ? শিবচরণ নিস্পৃহভাবে কহিল, কি-ই বা করব, আর কি-ই বা করতে পারি ? আমি সামান্ত ব্যক্তি বৈ ত না । হরিলক্ষ্মী উদ্বিগ্ন হইয়া কহিল, এ কথার মানে ? শিবচরণ বলিল, মেজবৌমা বলে থাকেন কি না, রাজত্বট ত আর বটুঠাকুরের নয়—ইংরাজ গভর্নমেন্টের ! ২১ e