পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এই অপ্রত্যাশিত কুৎসিত মন্তব্যে হরিশ ক্রুদ্ধ হইবে কি, বিস্ময়ে অভিভূত হইয়া গেল। তাহার মুখ দিয়া শুধু বাহির হইল, কি-রকম ? নিৰ্ম্মলা সক্রোধে বলিল, রকম ভালই। আমি কচি-খুকি নই, জানি সব, বুঝি সব । আমার চোখে ধূলো দেৰে তুমি ? আচ্ছা— · উমা পাশের ঘর হইতে ছুটয়া আসিয়া সভয়ে কহিল, তুমি করচ কি বৌদি, বাবা গুনতে পাবেন যে ? নিৰ্ম্মলা জবাব দিল, পেলেনই বা শুনতে । আমি ত চুপি চুপি কথা কইচিনে । এই উত্তরের প্রত্যুত্তরে যে উমা কি বলিবে ভাবিয়া পাইল না, কিন্তু পাছে তাহার উচ্চস্বরে বৃদ্ধ পিতার ঘুম ভাঙ্গিয়া যায় এই ভয়ে সে পরক্ষণেই জোড়-হাতে ক্রুদ্ধ চাপ গলার মিনতি করিয়া কহিল, রক্ষে কর বৌদি, এত রাত্রে টেচিয়ে আর কেলেঙ্কারী ক'রে না । বধুর কণ্ঠস্বর ইহাতে বাড়িল বই কমিল না, কহিল, কিসের কেলেঙ্কারী ! তুমি বলবে না কেন ঠাকুরবি, তোমার বুকের ভেতরটা ত অার জলে-পুড়ে যাচ্ছে না। বলিতে বলিতে সে কাদিয়া ফেলিয়া দ্রুতবেগে ঘরে ঢুকিয়া সশস্বে স্বারে খিল বন্ধ করিয়া দিল । হরিশ কাঠের পুতুলের মত নিঃশব্দে নীচে আসিয়া বাকী রাতটুকু মক্কেলদের বসিবার বেঞ্চের উপর গুইয়া কাটাইল । অতঃপর দিন-দশেকের মত উভয়ের বাক্যালাপ স্থগিত হইয়া গেল । কিন্তু হরিশকেও আর সন্ধ্যার পরে বাহিরে পাওয়া ষায় না । গেলেও তাহার শঙ্কাকুল ব্যাকুলতা লোকের হাসির বস্তু হইয়া উঠিল। বন্ধুরা রাগ করিয়া বলিতে লাগিলেন, হরিশ, যত বুড়ো হ’চ্চো, রোগও যে তত বেড়ে যাচ্ছে হে ? হরিশ অধিকাংশ স্থলেই জবাব দিত না, কেবল খোচা বেশী করিয়া বিধিলেই বলিত, এই ঘেন্নায় আমাকে যদি তোমরা ত্যাগ করতে পার ত তোমরাও বাচো আমিও বাচি । বন্ধুরা কহিতেন, বৃথা । বৃথা । ওকে লজ্জা দিতে গিয়ে এখন নিজেরাই লজায় মরি ।