পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষোড়শী তারাদাস । ( অকস্মাৎ বুকফাটা ক্ৰন্দনে সকলকে সচকিত করিয়া পুলিশকৰ্ম্মচারীর পায়ের নীচে পড়িয়া কাদিয়া ) বাৰুমশায়, আমার কি হবে! আমাকে যে এবার জমিদারের লোক জ্যান্ত পুতে ফেলবে। ইন্সপেক্টার। ( তিনি বয়সে প্রবীণ, শশব্যস্ত হইয় তাহাকে চেষ্টা করিয়া হাত ধরিয়া তুলিয়া সদয়কণ্ঠে) ভয় কি ঠাকুর, তুমি যেমন ছিলে তেমনি থাকো গে। স্বয়ং ম্যাজিস্ট্রেই সাহেব তোমার সহায় রইলেন- আর কেউ তোমাকে জুলুম করবে না। ( কটাক্ষে জীবানন্দের দিকে চাহিলেন । ) তারাদাস । ( চোখ মুছিতে মুছিতে) সাহেব যে রাগ করে চলে গেলেন বাবু! ইনস্পেক্টার। (মুচকি হাসিয়া ) না ঠাকুর, রাগ করেননি, তবে আজকের এই ঠাট্টাটুকু তিনি সহজে ভুলতে পারবেন, এমন মনে হয় না। তা ছাড়া আমরাও মরিনি, থানাও যা হোক একটা আছে । ( আড়চোখে জীবানন্দের দিকে চাহিয়া, কিছু পরে ) এখন চল ঠাকুর, যাওয়া যাক। এই রাতে যেতেও ত হবে অনেকটা । সাব-ইন্সপেক্টার। ( বয়সে তরুণ, অল্প হাসিয়া) মেয়েটি রেখে ঠাকুরটি কি তবে একাই যাবেন না কি ? কথাটায় সবাই হাসিল—কনেস্টবলগুলা পৰ্য্যন্ত । এককড়ি কড়িকাঠের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ কবিল। তারাদাসের চোখের অশ্রু চোখের পলকে অগ্নিশিখায় রূপান্তরিত হইয়া গেল ] তার দাস । ( ষোড়শীর প্রতি কঠোর দৃষ্টিপাত করিয়া সগর্জনে ) যেতে হয় আমি একাই যাব। আবার ওর মুখ দেখব—আবার ওকে বাড়িতে ঢুকতে দেব আপনারা ভেবেচেন ? ইনস্পেক্টার। ( সহাস্তে ) মুখ তুমি না দেখতে পার কেউ মাথার দিব্যি দেবে না ঠাকুর । কিন্তু যার ঘর-বাড়ি, তাকে বাড়ি ঢুকতে না দিয়ে আর যেন নতুন ফ্যাসাদে পোড়ো না ! তারাদাস (আস্ফালন করিয়া ) বাড়ি কার ? বাড়ি আমার । আমি ভৈরবী করেচি, আমিই ওকে দূর করে তাড়াব। কলকাঠি এই তারা চকোত্তির হাতে (সজোরে নিজের বুক ঠুকিয়া) নইলে কে ও জানেন ? শুনবেন ওর মায়ের— ইনস্পেক্টার। ( থামাইয়া দিয়া ) থামো ঠাকুর, থামো, রাগের মাথায় পুলিশের কাছে সব কথা বলে ফেলতে নেই—তাতে বিপদে পড়তে হয়। ( ষোড়শীর প্রতি ) তুমি যেতে চাও ত আমরা তোমাকে নিরাপদে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি। চল, আর দেরি করো না । - ❖ ዓ 9اس-}*ه د