পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


विलाखौं বসর খানেক গত হইয়াছে। মশার কানড় মার সঙ্ক করিতে না পারিয়া সবেমাত্র সন্ন্যাসীগিরিতে ইস্তফা দিয়া ঘরে ফিরিয়াছি ! একদিন দুপুরবেলা ক্রোশদুই দূরের মাল পাড়ার ভিতর দিয়া চলিয়াছি, হঠাৎ দেখি একটা কুটিরের দ্বারে বলিয়া মৃত্যুঞ্জয় । তার মাথায় গেরুয়া-রঙের পাগড়ী, বড় বড় দাড়ি-চুল, গলায় রুদ্রাক্ষ ও পুথির মালা—কে বলিবে এ আমাদের সেই মৃত্যুঞ্জয় ! কায়ন্থের ছেলে একটা বছরের মধ্যেই জাত দিয়া একেবারে পুরাদপ্তর সাপুড়ে হইয়া গেছে। মানুষ কত শীঘ্র যে তাহার চৌদ-পুরুষের জাতটা বিসর্জন দিয়া আর একটা জাত হইয়া উঠিতে পারে, সে এক আশ্চৰ্য্য ব্যাপার। ব্রাহ্মণের ছেলে মেথরাণী বিবাহ করিয়া মেথর হইয়া গেছে এবং তাহাদের ব্যবসা অবলম্বন করিয়াছে, এ বোধ করি আপনার সবাই শুনিয়াছেন। আমি সদব্ৰাহ্মণদের ছেলেকে এন্ট.ান্স পাশ করার পরেও ডোমের মেয়ে বিবাহ করিয়া ডোম হইতে দেখিয়াছি। এখন সে ধুচুনি কুলো বুনিয়া বিক্রয় করে, শূয়ার চরায় । ভাল ভাল কায়স্থ-সস্তানকে কসাইয়ের মেয়ে বিবাহ করিয়া কলাই হইয়া যাইতেও দেখিয়াছি । আজ সে স্বহস্তে গরু কাটিয়া বিক্রয় করে—তাহাকে দেখিয়া কাহার সাধ্য বলে, কোনকালে সে কসাই ভিন্ন আর কিছু ছিল ! কিন্তু সকলেরই ওই একই হেতু । আমার তাই ত মনে হয়, এমন করিয়া এত সহজে পুরুষকে যাহারা টানিয়া নামাইতে পারে, তাহারা কি এমনিই অবলীলাক্রমে তাহাদের ঠেলিয়া উপরে তুলিতে পারে না ? যে পল্লী গ্রামের পুরুষদের মুখ্যাতিতে আজ পঞ্চমুখ হইয়া উঠিয়াছি, গৌরবটা কি একা শুধু তাহাদেরই ? শুধু নিজেদের জোরেই এত দ্রুত নীচের দিকে নামিয়া চলিয়াছে। অন্দরের দিক হইতে কি এতটুকু উৎসাহ, এতটুকু সাহায্য আসে না ? কিন্তু থাক । ঝে*াকের মাথায় হয় ত বা অনধিকার চর্চা করিয়া বসিব । কিন্তু আমার মুস্কিল হইয়াছে এই যে, আমি কোনমতেই ভুলিতে পারি না, দেশের নবদুইজন নর-নারীই ঐ পল্লীগ্রামেরই মাহুষ এবং সেইজন্য কিছু একটা আমাদের করা চাই-ই। যাক। বলিতেছিলাম যে, দেখিয়া কে বলিবে এ সেই মৃত্যুঞ্জয় । কিন্তু আমাকে সে খাতির করিয়া বসাইল। বিলাসী পুকুরে জল আনিতে গিয়াছিল, আমাকে দেখিয়া সেও ভারী খুশী হইয় বারবার বলিতে লাগিল, তুমি না জাগ লালে সে রাত্তিরে আমাকে তারা মেরেই ফেলত। আমার জন্তে কত মারই না জানি তুমি খেয়েছিলে । কথায় কথায় শুনিলাম, পরদিনই তাহার এখানে উঠিয়া আসিয়া ক্রমশঃ ঘর বাধিয়া বাস করিতেছে এবং মুখে আছে। মুখে যে আছে, এ-কথা আমাকে বলার প্রয়োজন ছিল না, শুধু তাহাদের মুখের পানে চাহিয়াই আমি তাহা বুঝিয়াছিলাম। Ruచి