পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ধাদুবিস্তার নালা এক লাফে ডিজিয়ে গেল, আর আমরা দেশ-শুদ্ধ লোক মিলে ঘাড় মোড় ভেঙ্গে সেই পাকেই চিরকাল পুতে রইলাম! বাইরের দিকে বিশ্বৰত যে একটা প্রকাও কল, এর অখণ্ড অব্যাহত নিয়মের শৃঙ্খল যে যাদুবিদ্যায় ভাঙ্গে না, সংসারে যা-কিছু ঘটে তারই একটা হেতু আছে, এবং সেই হেতু কঠোর জাইন-কান্থনে বাধা, অর্থাৎ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের যথার্থ জনক-জননী বিশ্ব-জগতে কাৰ্য্যকারণের সত্য ও নিত্য সম্বন্ধের ধারণা কি এই দুর্ভাগ্য পূৰ্ব্বদেশে কারও ছিল না ? এবং এই তত্ব প্রচারের চেষ্টা কি পশ্চিম হতে আমদানি না করতে পারলে আমাদের ভাগ্যে মরণউচ্চাটন মন্ত্র-তন্ত্রের বেশী আর কিছুই মিলতে পারে না ? পশ্চিমের বিস্তার অনেক গুণ থাকতে পারে, কিন্তু সে যদি আমাদের নিজেদের প্রতি কেবল অনাস্থাই এনে দিয়ে থাকে, আমাদের জ্ঞান, আমাদের ধৰ্ম্ম, আমাদের সমাজ-সংস্থান, আমাদের বিস্তাবুদ্ধি সকলের প্রতি যদি শুধু অশ্রদ্ধাই জন্মিয়ে দিয়ে থাকে, ত মনে হয়, লুন্ধচিত্তে পশ্চিমের শুক্রচার্য্যের পানে আমাদের না তাকানোই ভাল। বস্তুতঃ, এই ত নাস্তিকতা। আমি পূৰ্ব্বেই বলেছি, ষে-শিক্ষায় মাতুব সত্যকারের মানুষ হয়ে উঠতে পারে-অস্তত:, তাদের মানুষের ধারণা যা,—তা তারা আমাদের দেয়নি, দেবে না এবং আমার বিশ্বাস দিতে পারেও না । এই সুদীর্ঘকাল পশ্চিমের সংসর্গেও যে আমরা কি হয়ে আছি, মাত্র সেইটুকুই কি এ-বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ নয় ? পেয়েছি কেবল এই শিক্ষা—যাতে নিজেদের সর্ববিষয়ে অবজ্ঞা এবং তাদের যা-কিছু সমস্তের পরেই আমাদের গভীর শ্রদ্ধা জন্মে গেছে । আর তাদের ভিতরের দ্বার এমন অবরুদ্ধ বলেই অবনতিও আজ আমাদের এত গভীর। সেটা তো জানবার পথ নেই, তাই শুধু তাদের বাইরের সাজ-সজ্জা দেখে একদিকে নিজেদের প্রতি যেমন ঘৃণা, অন্ত দিকে তাদের প্রতিও ভক্তির আবেগ একেবারে শতধারে উৎসারিত হয়ে উঠেছে। তাই, একদিন আমাদের দেশের একদল লোক নির্বিচারে ঠিক করেছিলেন, ঠিক ওদের মত হতে না পারলে আর আমাদের মুক্তি নেই। ওদের জাতিভেদ নেই— অতএব সেটা ঘোচানো চাই, ওদের স্ত্রী-স্বাধীনতা আছে—অতএব সেটা না হলেই নয়, তাদের খাওয়া-দাওয়ার বাচ-বিচার নেই—স্বতরাং ওটা না তুললেই আর রক্ষা নেই, তাদের মন্দির নেই—অতএব আমাদের গির্জার ব্যবস্থা চাই, তারা ভাড়া করে ধৰ্ম্ম প্রচারক রাখে, সুতরাং আমাদেরও ওটা অত্যাবশ্বক—এমনি কত কি ! কেবল গায়ের চামড়াটা বদলাবার ফন্দি তারা খুজে পাননি, নইলে আজ তাদের চেনাও বেত না। অথচ, আমি এর দোষ-গুণের বিচার করছিনে, আমি সরল-চিত্তে বলছি, কোন দল বা ব্যক্তিবিশেষকে আক্রমণ করবার আমার লেশমাত্র অভিরুচি নেই,আমি কেবল \నీtు