পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


विडिब्र ब्रष्ठनांबलौ থাকে। এই ফুল-সমেত বৃক্ষশাখা, তা সে বর্ণে ও গন্ধে যত দামীই হোক, একদিন শুখোবেই শুখোবে, কোন কৌশলেই তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এই সত্যটা আজ আমাদের একান্তই বোঝবার দিন এসেচে যে, ঠকিয়ে-মজিয়েই হোক বা কেড়ে-বিকড়েই হোক, নানা দেশ থেকে টেনে এনে জমা করাটাই দেশের সম্পদ নয়। যথার্থ সম্পদ দেশের প্রয়োজনের মধ্যে থেকেই গড়ে ওঠে । তার অতিরিক্ত যা সে শুধুই ভার, নিছক আবর্জন। পরের দেখে আমরাও যেন ওই ঐশ্বর্ষের প্রতি লুব্ধ হয়ে না উঠি। আমাদের জ্ঞান, জামাদের অতীত আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছিল, আজ অপরের শিক্ষার মোহে যদি নিজের শিক্ষাকে হেয় মনে করে থাকি ত সে পরম দুর্ভাগ্য। ঐ যে ট্রাম, ঐ যে মোটর পথের উপর দিয়ে বায়ুবেগে ছুটেছে, ঐ যে ঘরে ঘরে electrio পাথা ঘুরচে, ঐ যে সহরের জালোর মালার আদিঅন্ত নেই, ঐ যে শত-সহস্ৰ বিদেশী সভ্যতার তোড়-জোড় বিদেশ থেকে বয়ে এনে জমা করেছি, ওর কোনটাই কি আমাদের যথার্থ সম্পদ । বিগত যুদ্ধের দিনের মত আবার যদি কোনদিন ওর আমদানীর মূল শুকিয়ে যায় ত ভোজবাজির মত ওদের অস্তিত্ব এ-দেশ থেকে উঠে যেতে বিলম্ব হবে না। ও-সকল আমরা স্বাক্ট করিনি, করতেও জানিনে। পরের কাছ থেকে বয়ে আনা । আজ ও-সকল আমাদের না হলেও নয়, অথচ, ওর কোনটাই আমাদের যথার্থ প্রয়োজনের ভিতর দিয়ে গড়ে ওঠেনি। এই যে দেখা-দেখি প্রয়োজন, এ যদি আমরা গড়তেও না পারি, ছাড়তেও না পারি, তা হলে দুষ্ট ক্ষুধার মত ও কেবল আমাদের একদিকে প্রলুব্ধ এবং অন্যদিকে পীড়িতই করতে থাকবে । কিন্তু পশ্চিম ওদের স্বাক্ট করেছে নিজের গরজ থেকে। তাদের সভ্যতায় ও-সকল চাই-ই চাই। ঐ যে বড় বড় মানোয়ারী জাহাজ, ওই যে গোলাগুলি-কামান-বন্দুক গ্যাসের নল, ওই যে উড়ো এবং ডুবো জাহাজ ও সমস্তই ওদের সভ্যতার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, তাই কোনটাই ওদের বোঝা নয়, তাই ওদের পরিণতি, ওদের নিত্য নব আবির্ভাব দেশের প্রতিভার ভিতর থেকেই বিকশিত হয়ে উঠেচে। দূর থেকে আমরা লোভ করতেও পারি, নিতান্ত নিরীহ গোছের বাবুয়ানীর সরঞ্জাম কিনেও আনতে পারি, কিন্তু বাণিজ্য-জাহাজই বল, আর মোটর-গাড়িই বল, যতক্ষণ না সে নিজেদের প্রয়োজনে, নিজের দেশে, নিজের জিনিসের মধ্যে দিয়ে জন্মলাভ করে, ততক্ষণ যেমন করে এবং যত টাকা দিয়েই না তাদের সংগ্রহ করে আনি, সে আমাদের সত্যকারের ঐশ্বৰ্য্য নয়। তাই ম্যানচেস্টারের স্বল্প বস্ত্র, গ্লাসগো লিনেন, এবং মসলিন, স্কটল্যাণ্ডের পশমী পীতবস্ত্র,—তা সে আমাদের যত শীতই নিবারণ করুক এবং মেহের সৌন্দৰ্য্য বৃদ্ধি করুক, কোনটাই আমাদের যথার্থ সম্পদ নয়—নিছক আবর্জন । ב נסי