পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পেরে অনেকদিনই ছুটে গিয়ে তাদের মধ্যে পড়েছি এবং তাদের বহু দুঃখ, বন্ধ দৈন্তের আজও আমি সাক্ষী হয়ে আছি। তাদের সেই-সব অসহ, অব্যক্ত দুঃখ ও দৈন্য ঘোচাবার ভার নিতে আজ আমার দেশের সমস্ত নর-নারীকে আহবান করতে সাধ যায়, কিন্তু কণ্ঠ আমার রুদ্ধ হয়ে আসে, যখনই মনে হয়, মাতৃভূমির এই মহাযজ্ঞে নারীকে আহবান করার আমার কতটুকু অধিকার আছে। যাকে দিইনি, তার কাছে প্রয়োজনে দাবী করি কোন মুখে ? কিছুকাল পূৰ্ব্বে নারীর মূল্য’ বলে আমি একটা প্রবন্ধ লিখি । সেই সময়ে মনে হয়, আচ্ছা, আমার দেশের অবস্থা ত আমি জানি, কিন্তু আরও ত ঢের দেশ আছে, তারা নারীর দাম সেখানে কি দিয়েছে । পুথি-পত্র ঘেটে যে সত্য বেরিয়ে এল, তা দেখে একেবারে আশ্চর্ষ। হয়ে গেলাম । পুরুষের মনের ভাব, তার অন্তায় এবং অবিচার সৰ্ব্বত্রই সমান । নারীর ন্যায্য অধিকার থেকে কম-বেশী প্রায় সমস্ত দেশের পুরুষ তাদের বঞ্চিত করে রেখেচে । সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত তাই আজ দেশ জুড়ে আরম্ভ হয়ে গেছে। স্বার্থ এবং লোভে, পৃথিবীজোড়া যুদ্ধে পুরুষ যখন মারামারি কাটাকাটি বাধিয়ে দিলে তখনই তাদের প্রথম চৈতন্য হ’লো, এই রক্তারক্তিই শেষ নয়, এর উপরে আরও কিছু আছে । পুরুষের স্বার্থের যেমন সীমা নেই, তার নির্লজ্জতারও তেমনি অবধি নেই। এই দারুণ দুদিনে নারীর কাছে গিয়ে দাড়াতে তার বাধল না । আমি ভাবি, এই বঞ্চিতার দান না পেলে এ সংসার-ব্যাপী নরযজ্ঞের প্রায়শ্চিভের পরিণাম আজ কি হ’তো ? অথচ, এ-কথা ভুলে ধেতেও আজ মানুষের বাধেনি। আজ আমাদের ইংরাজ Government-এর বিরুদ্ধে ক্রোধ ও ক্ষোভের অঙ্ক নেই। গালিগালাজও কম করিনি । তাদের অন্যায়ের শাস্তি তারা পাবে, কিন্তু কবলমাত্র তাদেরই ক্রটির উপর ভর দিয়ে আমর। যদি পরমনিশ্চিস্তে আত্মপ্রসাদ লাভ করি তার শাস্তি কে নেবে ? এই প্রসঙ্গে আমার ক্যাদায় গ্রস্ত বাপ-খুড়া-জ্যেঠাদের ক্রোধান্ধ মূখণ্ডলি মনে পড়ে। এবং সেইসকল মুখ থেকে যে বাণী নির্গত হয় তাও মনোরম নয় । তারা আমাকে এই বলে অসুযোগ করেন, আমি আমার বইয়ের মধ্যে কন্যা-পণের বিরুদ্ধে মহা হৈ চৈ করে তাদের কন্যাদায়ের সুবিধে করে দিইনি কেন ? আমি বলি, মেয়ের বিয়ে দেবেন না । র্তার চোখ কপালে তুলে বলেন, সে কি মশায়, কন্যাদায় যে । আমি বলি, কন্য। যখন জায় তখন তার প্রতিকার আপনিই করুন, অামার মাথা গরম করার সময়ও নেই, বরের বাপকে নিরর্থক গালমন্দ করারও প্রবৃত্তি নেই। আসল কথা এই ৰে, বাঘের মূখে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে তাকে বোষ্টম হতে తిఇs