পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ জীবানন্দ । নিতান্ত মিথ্যে বলনি ভায়া, এত টাকা দিয়ে আমি নিজেকেও বিশ্বাস করতে পারতাম না। অথচ এ আমি চাইনি। যতই তাকে পীড়াপীড়ি করলাম জনাৰ্দ্দনকে দিতে, ততই সে অস্বীকার করে আমার হাতে গুজে দিলে। প্রফুল্ল । এর কারণ ? জীবানন্দ । বোধ হয় সে ভেবেছিল এ দুর্নামের ওপর আবার চুরির কলঙ্ক চাপালে তার আর সইবে না। এদের সে চিনেছিল। প্রফুল্ল । কিন্তু আপনাকে সে চিনতে পারেনি । জীবানন্দ । ( হাসিল, কিন্তু সে হাসিতে আনন্দ ছিল না ) সে দোষ তার, আমার নয়। তার সম্বন্ধে অপরাধ আর যত দিকেই করে থাকি প্রফুল্ল, আমাকে চিনতে না দেওয়ার অপরাধ করিনি। কিন্তু আশ্চৰ্য্য এই পৃথিবী, এবং তার চেয়েও আশ্চৰ্য্য এর মানুষের মন । এ যে কি থেকে কি স্থির করে নেয় কিছুই বলবার জো নেই। এর যুক্তিটা কি জানো ভায়া, সেই যে তার হাত থেকে একদিন মরফিয়া চেয়ে নিয়ে চোখ বুজে খেয়েছিলাম, সেই হ’লো তার সকল তর্কের বড় তর্ক—সকল বিশ্বাসের বড় বিশ্বাস । কিন্তু সে রাত্রে আর যে কোন উপায় ছিল না—সে ছাড়া যে আর কারও পানে চাইবার কোথাও কেউ ছিল না—এ-সব ষোড়শী একেবারে ভুলে গেছে । কেবল একটি কথা তার মনে জেগে আছে—যে নিজের প্রাণটা অসংশয়ে তার হাতে দিতে পেরেছিল তাকে আবার অবিশ্বাস করা যায় কি করে । ব্যস, যা কিছু ছিল চোখ বুজে দিলে আমার হাতে তুলে। প্রফুল্ল, দুনিয়ার ভয়ানক চালাক লোকেও মাঝে মাঝে মারাত্মক ভুল করে বসে, নইলে সংসারটা একেবারে মরুভূমি হয়ে যেত, কোথাও রসের বাষ্পটুকু জমবার ঠাই পেত না । প্রফুল্ল । অতিশয় খাটি কথা দাদা ! অতএব অবিলম্বে খাতাখানা পুড়িয়ে ফেলে তারাদাস ঠাকুরকে ডেকে ধমক দিন–জমানো মোহরগুলোয় যদি সলোমন সাহেবের দেনাটা শোধ যায় ত শুধু রসের বাষ্প কেন, মুষলধারে বর্ষণ শুরু হতে পারবে। জীবানন্দ । প্রফুল্প, এই জন্যই তোমাকে এত পছন্দ করি । প্রফুল্ল । ( হাত জোড় করিয়া ) এই পছন্দ একবার একটু খাটো করতে হবে দাদা। রসের উৎস আপনার অফুরন্ত হোক, কিন্তু মোসাহেবী করে এ অধীনের গলার চুঙ্গিটা পৰ্য্যন্ত কাঠ হয়ে গেছে। এইবার একবার বাইরে গিয়ে দুটাে ডালভাতের যোগাড় করতে হবে । কাল-পরশু আমি বিদায় নিলাম। জীবানন্দ । ( সহাস্তে ) একেবারে নিলে ? কিন্তু এইবার নিয়ে ক’বার নেওয়া হ’লো প্রফুল্ল ? - ማእ8