পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ছিল, সংসারে এই দুটি মানুষ ছাড়া আর কেহ তাহ জানে না। নতুন-মা উত্তর দিতে পারিলেন না, গভীর লজ্জায় মাথা হেঁট করিলেন । কয়েক মুহূৰ্ত্ত নীরবে কাটিল। ব্রজবাবু মাথা নাড়িয়া অনেকটা যেন নিজের মনেই বলিয়া উঠিলেন, অসম্ভব। রাখাল মৃদুকণ্ঠে প্রশ্ন করিল, অসম্ভব কি কারণে কাকাবাৰু? ব্ৰজবাবু বলিলেন, অসম্ভব বলেই অসম্ভব রাজু। নতুন-বোঁ জানে না, জানবার কথাও নয়, কিন্তু তুমি তো জানো। তাহার কণ্ঠস্বরে, চোখের দৃষ্টিতে নিরাশা যেন ফুটিয়া পড়িল । অন্যথার কথা যেন তিনি ভাবিতেই পারিলেন না। নতুন-মা মুখ তুলিয়া চাহিলেন, বলিলেন, নতুন-বোঁ তো জানে না, তাকে বুঝিয়েই বলে না মেজকর্ত, অসম্ভব কিসের জন্তে ? রেণুর মা নেই, তার বাপ আবার যাকে বিয়ে করেচে তার ভাই চায় পাগলের হাতে মেয়ে দিতে—তাই অসম্ভব ? কিছুতেই ঠেকান যায় না এই কি তোমার শেষ কথা ? তাহার মুখের 'পরে ক্রোধ, করুণা না তাচ্ছিল্য, কিসের ছায়া যে দেখা দিল নিঃসংশয়ে বলা কঠিন। দেখিয়া ব্ৰজবাবুর তৎক্ষণাৎ স্মরণ হইল, যে অবাধ্য নতুন-বোঁয়ের বিরুদ্ধে এইমাত্র তিনি অভিযোগ করিয়াছেন এ সেই । রাখালের মনে পড়িল, যে নতুন-মা বাল্যকালে তাহার হাত ধরিয়া নিজের স্বামীগৃহে আনিয়াছিলেন ইনি সেই । লজ্জ ও বেদনায় অভিসিঞ্চিত যে-গৃহের আলো-বাতাস স্নিগ্ধ হাস্য-পরিহাসের মুক্তাম্রোতে অভাবনীয় সহৃদয়তায় উজ্জল হইয়া আসিতেছিল, একমুহূর্তেই আবার তাহা শ্রাবণের অমানিশার অন্ধকারের বোঝা হইয়া উঠিল। রাখাল ব্যস্ত হইয়া হঠাৎ উঠিয়া দাড়াইয়া কহিল, মা, অনেকক্ষণ তো আপনি পান খাননি? আমার মনে ছিল ন মা, অপরাধ হয়ে গেছে । নতুন-মা কিছু আশ্চৰ্য্য হইলেন—পান ? পানের দরকার নেই বাবা । নেই বই কি ! ঠোট দুটি শুকিয়ে কালো হয়ে উঠেচে । কিন্তু আপনি ভাবচেন এখুনি বুঝি হিন্দুস্থানী পান-আলার দোকানে ছুটবো । না মা, সে বুদ্ধি আমার আছে। এসে তো তারক, এই মোড়টার কাছে আমাকে নিয়ে একটু দাড়াবে, এই বলিয়া সে বন্ধুর হাতে একটা প্রচণ্ড টান দিয়া দ্রুতবেগে দুজনে ঘরের বাহিরে চলিয়া গেল । এইবার নিরালা গৃহের মধ্যে মুখোমুখি বসিয়া দুজনেই সঙ্কোচে মরিয়া গেলেন। নিঃসম্পৰ্কীয় যে-দুটি লোক মেঘখণ্ডের ন্যায় এতক্ষণ আকাশের স্বৰ্য্যোলোককে বাধাগ্রস্ত রাখিয়াছিল, তাহাদের অন্তর্ধানের সঙ্গে-সঙ্গেই বিনিম্মুক্ত রবিকরে ঝাপা কিছুই আর রহিল না। স্বামী-স্ত্রীর গভীর ও নিকটতম সম্বন্ধ যে এমন ভয়ঙ্কর বিকৃত, ও লজ্জাকর হইয়া উঠিতে পারে, এই নিভৃত নির্জনতায় তাহ ধরা পড়িল। ইতিপূবের হাস্য रे●