পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় কিন্তু না পাওয়া গেলে ? পাগলের বদলে বাদরের হাতে মেয়ে দেবে ? সে মেয়ের কপাল । তার চেয়ে হাত-পা বেঁধে জলে ফেলে দিও ! তাই তো দিচ্ছিলে । আলোচনা পাছে বাদামুবাদে দাড়ায় এই ভয়ে রাখাল মাঝখানে কথা কহিল, বলিল, মামাবাবু কি রাগারগি করবেন মনে হয় কাকাবাবু ? ব্ৰজবাবু স্নান হাসিয়া বলিলেন, মনে হয় বই কি। হেমন্তর স্বভাব তুমি জানো তো রাজু সহজে ছাড়বে না। রাখাল খুব জানিত—তাই চুপ করিয়া রহিল। নতুন-বোঁ হঠাৎ ক্রুদ্ধ হইয়া কহিলেন, তোমার মেয়ে, যেখানে ইচ্ছে বিয়ে দেবে, ইচ্ছে না হলে দেবে না, তাতে হেমন্তবাবু বাধা দেবেন কেন ? দিলেই বা তুমি শুনবে কেন। প্রত্যুত্তরে ব্রজবাবু না বলিলেন বটে, কিন্তু গলায় জোর নাই তাহা সকলেই অনুভব করিল। নতুন-বোঁ বলিতে লাগিলেন, তোমার ছেলে নেই, শুধু দুটি মেয়ে। এবং যা পাবে তাতে খুজলে কলকাতা সহরে সুপাত্রের অভাব হবে না, কিন্তু সে কটা দিন তোমাকে স্থির হয়ে থাকতেই হবে। আশীৰ্ব্বাদ, গায়ে-হলুদের ওজর তুলে ভূতপ্রেত, পাগল-ছাগলের হাতে মেয়ে সম্প্রদান করা চলবে না। এর মধ্যে হেমন্তবাবু বলে কেউ নেই। বুঝলে মেজকর্তা ? ব্ৰজবাবু বিষন্নমুখে মাথা নাড়িয়া বলিলেন, হা। রাখাল কথা কহিল। বলিল, এ হোল সহজ যুক্তি ও ন্যায়-অন্যায়ের কথা মা, কিন্তু হেমন্তবাবুকে তো আপনি জানেন না। রেণু অনেক-কিছু পাবে বলেই তার অদৃষ্টে আজ মামাবাবুর পাগল আত্মীয় জুটেচে, মইলে জুটতো না—ও নিশ্বাস ফেলবার সময় পেতো। মামাবাবু এক কথায় হাল ছাড়বার লোক নয় মা। কি করবেন শুনি ? রাখাল জবাব দিতে গিয়া হঠাৎ চাপিয়া গেল। ব্ৰজবাবু দেখিয়া বলিলেন, লজ্জা নেই রাজু, বলে। আমি অনুমতি দিচ্ছি। তথাপি রাখালের সঙ্কোচ কাটে না, ইতস্ততঃ করিয়া শেষে কহিল, ও লোকট। গায়ে হাত দিতে পর্য্যস্ত পারে । কার গায়ে হাত দিতে পারে রাজু? মেজকৰ্ত্তার ? ই্যা, একবার ঠেলে ফেলে দিয়েছিল, পোনর-ষোলদিন কাকাবাবু উঠতে পারেননি। নতুমার চোখের দৃষ্টি হঠাৎ ধ্বক করিয়া জলিয়া উঠিল—তার পরেও ও-বাড়িতে আছে ? খাচ্চে পরচে ? রাখাল বলিল, শুধু নিজে নয়, মাকে পর্য্যন্ত এনেছেন—কাকাবাবুর শাশুড়ী। পরিবার নেই, মারা গেছেন, নইলে তিনিও বোধ করি এতদিনে এসে হাজির হতেন। לכי