পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ প্রায় ধরিয়া ফেলিয়া সাতুনয়ে কহিল, এতেই হবে মাসী, আর কাজ নেই। নে, স্বকুমারী ওঠ, মা, চল বাছ, আমার সঙ্গে ও ঘরে গিয়ে বসবি চল। পরাণ হালদার চাদর কাধে লইয়া সোজা খাড়া হইয়া উঠিয়া বলিল, বেপ্তে মাগীদের বাড়ি থেকে একেবারে তাড়িয়ে না দিলে এখানে আমি জলগ্ৰহণ করব না তা বলে দিচ্চি । গোবিন্দ ! কালীচরণ ! তোমাদের মামাকে চাও ত উঠে এসো বলচি। বেণী ঘোষাল যে তখন বলেছিল, মামা, যেয়ে না ওখানে! এমন সব খানকী নটীর কাণ্ডকারখাবখানা জানলে কি জাতজন্ম খোয়াতে এ-বাডির চৌকাঠ মাড়াই ? কালী ! উঠে এসো। মাতুলের পুনঃ পুনঃ আহানেও কিন্তু কালীচরণ ঘাড হেঁট করিয়া বসিয়া রহিল। সে পাটের ব্যবসা করে। বছর-চারেক পূৰ্ব্বে কলিকাতাবাসী তাহার এক গণ্যমান্য খরিদ্ধার বন্ধু তাহার বিধবা ছোট ভগ্নিটিকে লইয়া প্রস্থান করিয়াছিল—ঘটনাটি গোপন ছিল না। হঠাৎ শ্বশুরবাড়ি যাওয়া এবং তথা হইতে তীর্থযাত্রা ইত্যাদি প্রসঙ্গে কিছুদিন চাপা ছিল মাত্র। পাছে এই দুর্ঘটনার ইতিহাস এত লোকের সমক্ষে আবার উঠিয়া পড়ে এই ভয়ে কালী মুখ তুলিতে পারিল না। কিন্তু গোবিন্দের গায়ের জালা আদৌ কমে নাই! সে আবার উঠিয়া দাড়াইয়া জোর গলায় কহিল, যে যাই বলুক না কেন, এ অঞ্চলে সমাজপতি হলেন বেণী ঘোষাল, পরাণ হালদার, আর যদু মুখুয্যেমশায়ের কন্যা । তাদের আমরা ত কেউ ফেলতে পারব না। রমেশ বাবাজী সমাজের অমতে এই দুটো মাগীকে কেন বাড়ি ঢুকতে দিয়েচেন, তার জবাব না দিলে আমরা এখানে জলটুকু পৰ্যন্ত মুখে দিতে পারব না। দেখিতে দেখিতে পাঁচ-সাত-দশজন চাদর কাধে ফেলিয়া একে একে উঠিয়৷ দাড়াইল । ইহারা পাড়াগায়ের লোক, সামাজিক ব্যাপারে কোথায় কোন চাল সৰ্ব্বাপেক্ষা লাভজনক ইহা তাহাদের অবিদিত নহে । নিমন্বিত ব্রাহ্মণ সজ্জনেরা যাহারা যা খুশি বলিতে লাগিল। ভৈরব এবং দীয় ভটুচাষ কঁাদ কঁাদ হইয়া বার বার ক্ষ্যাস্তমাসী ও তাহার মেয়ের, একবার গাজুলী, একবার হালদার মশায়ের হাতে-পায়ে ধরিবার উপক্রম করিতে লাগিল—চারিদিক হইতে সমস্ত অনুষ্ঠান ও ক্রিয়া-কৰ্ম্ম যেন লণ্ডভণ্ড হইবার স্বচনা প্রকাশ করিল। কিন্তু রমেশ একটি কথা কহিতে পারিল না। একে ক্ষুধায় তৃষ্ণায় নিতান্ত কাতর, তাহাতে অকস্মাৎ এই অভাবনীয় কাও। সে পাংশুমুখে কেমন যেন একরকম হতবুদ্ধির মত স্তব্ধ হইয়া চাহিয়া রহিল । রমেশ ! অকস্মাৎ একমুহূর্তে সমস্ত লোকের সচকিত দৃষ্টি এক হইয়া বিশ্বেশ্বরীর মুখের ” উপর গিয়া পড়িল। তিনি ভাড়ার হইতে বাহির হইয়া কপাটের সম্মুখে আসিয়া 36 &