পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দাড়াইয়াছিলেন। তাহার মাথার উপর আঁচল ছিল, কিন্তু মুখখানি অনাবৃত। রমেশ দেখিল, জ্যাঠাইম আপনিই কখন আসিয়াছেন—তাহাকে ত্যাগ করেন নাই। বাহিরের লোক দেখিল ইনিই বিশ্বেশ্বরী, ইনিই ঘোষাল-বাড়ির গিল্পীমা । পল্লীগ্রামে শহরের কড়া পর্দা নাই। তাচ বিশ্বেশ্বরী বড়বাড়ির বন্ধু বলিয়াই হোক কিংবা অন্য যে-কোন কারণেই হোক, যথেষ্ট বয়ঃপ্রাপ্তিসত্বেও সাধারণতঃ কাহারো সাক্ষাতে বাহির হইতেন না। সুতরাং সকলেই বড় বিম্মিত হইল। যাহারা শুধু শুনিয়াছিল, কিন্তু ইতিপূৰ্ব্বে কখনো চোখে দেখে নাই, তাহারা তাহার আশ্চৰ্য্য চোখ দুটির পানে চাহিয়া একেবারে অবাক হইয়া গেল। বোধ করি, তিনি হঠাৎ ক্রোধবশেই বাহির হইয়া পড়িয়াছিলেন। সকলে মুখ তুলিবামাত্রই তিনি তৎক্ষণাৎ থামের পার্থে সরিয়া গেলেন। মুম্পষ্ট তীব্র আহানে রমেশের বিহ্বলতা ঘুচিয়া গেল। সে সম্মুখে অগ্রসর হইয়া আসিল । জ্যাঠাইম আড়াল হইতে তেমনি মুম্পষ্ট উচ্চকণ্ঠে বলিলেন, গাঙ্গুলীমশায়কে ভয় দেখাতে মানা করে দে রমেশ ! আর হালদারমশায়কে আমার নাম করে বল যে, আমি সবাইকে আদর করে বাড়িতে ডেকে এনেচি, সুকুমারীকে অপমান করবার তার কোন প্রয়োজন ছিল না। আমার কাজ-কর্মের বাড়িতে হাক-ইকি, গালিগালাজ করতে আমি নিষেধ করচি। যার অল্পবিধে হবে তিনি আর কোথাও গিয়ে বস্থন । বড়গিল্পীর কড়া হুকুম সকলে নিজের কানে শুনিতে পাইল। রমেশের মুখ ফুটিয়া বলিতে হইল না—হইলে সে পারিত না । ইহার ফল কি হইল, তাহা সে দাড়াইয়া দেখিতেও পারিল না। জ্যাঠাইমাকে সমস্ত দায়িত্ব নিজের মাথায় লইতে দেখিয়া সে কোনমতে চোখের জল চাপিয়া দ্রুতপদে একটা ঘরে গিয়া চুকিল ; তৎক্ষণাৎ তাহার দুই চোখ ছাপাইয়া দরদর করিয়া জল গড়াইয়া পড়িতে লাগিল। আজ সারাদিন সে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিল, কে আসিল, না আসিল তাহার খোজ লইতে পারে নাই। কিন্তু আর যেই আস্বক, জ্যাঠাইমা যে আসিতে পারেন, ইহা তাহার স্বদূর কল্পনার অতীত ছিল। যাহারা উঠিয়া দাড়াইয়াছিল, তাহারা আন্তে আস্তে বসিয়া পড়িল। শুধু গোবিন্দ গাঙ্গুলী ও পরাণ হালদার আড়ষ্ট হইয়৷ দাড়াইয়া রহিল। কে একজন তাহাদিগকে উদ্বেগু করিয়া ভিড়ের ভিতর হইতে অক্ষুট কহিল, বসে পড় না খুড়ে ? ষোলখানা লুচি, চারজোড়া সন্দেশ কে কোথায় খাইয়ে-দাইয়ে সঙ্গে দেয় বাবা! পরাণ হালদার ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেলেন। কিন্তু আশ্চৰ্য্য, গোবিন্দ গাজুলী সত্যই বসিয়া পড়িল। তবে মুখখান সে বরাবর ভারী করিয়া রাখিল এবং জাহারের জন্তু পাতা পড়িলে তত্ত্বাবধানের ছুতা করিয়া সকলের সঙ্গে পংক্তি-ভোজনে উপবেশন করিল না। যাহারা তাহার এই ব্যবহার লক্ষ্য করিল তাহারা সকলেই } (to