পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ মনে মনে বুঝিল, গোবিন্স সহজে কাহাকেও নিষ্কৃতি দিবে না। অতঃপর জার কোন গোলযোগ ঘটিল না। ব্রাহ্মণেরা বাহা তোজন করিলেন, তাহ চোখে না দেখিলে প্রত্যয় করা শক্ত এবং প্রত্যেকেই খুদি, পটল, স্তাড়া, বুড়ি প্রভৃতি বাটীর অনুপস্থিত বালকবালিকার নাম করিয়া যাহা বাধিয়া লইলেন তাহাও যৎকিঞ্চিৎ নহে । সন্ধ্যার পর কাজ-কৰ্ম্ম প্রায় সারা হইয়া গিয়াছে, রমেশ সদর-দরজার বাহিরে একটা পেয়ারাগাছের তলায় অন্যমনস্কের মত দাড়াইয়াছিল, মনটা তাহার তাল ছিল না। দেখিল, দীনু ভট্চায ছেলেদের লইয়া লুচি-মণ্ডার গুরুভারে ঝুঁকিয়া পড়িয়া একরূপ অলক্ষ্যে বাহির इंश्च। যাইতেছে । সৰ্ব্বপ্রথমে খেদির নজর পড়ায় সে অপরাধীর মত থতমত খাইয়া দাড়াইয়া পড়িয়া শুষ্ককণ্ঠে কহিল, বাবা, বাৰু দাড়িয়ে— সবাই যেন একটু জড়সড় হইয়া পড়িল । ছোট মেয়েটির এই একটি কথা হইতেই রমেশ সমস্ত ইতিহাসটা বুঝিতে পারিল ; পলাইবার পথ থাকিলে সে নিজেই পলাইত। কিন্তু সে উপায় ছিল না বলিয়া আগাইয়া আসিয়া সহাস্তে কহিল, খেদি, এসব কার জন্যে নিয়ে যাচ্ছিস্ রে ? তাহাদের ছোট-বড় পুটুলিগুলির ঠিক সদুত্তর খেদি দিতে পারিবে না আশঙ্কা করিয়া নীয় নিজেই একটুখানি শুষ্কভাবে হাসিয়া বলিলেন, পাড়ার ছোটলোকদের ছেলেপিলেরা আছে ত বাবা, এটে-কঁটাগুলো নিয়ে গেলে তাদের দুখান-চারখানা দিতে পারব। সে যাই হোক বাবা, কেন যে দেশশুদ্ধ লোক ওঁকে গিল্পীমা বলে ডাকে তা আজ বুঝলুম। রমেশ তাহার কোন উত্তর না করিয়া সঙ্গে সঙ্গে ফটকের ধার পর্য্যন্ত আসিয়া— হঠাৎ প্রশ্ন করিল, আচ্ছা ভট্চাযিামশাই, আপনি ত এদিকের সমস্ত জানেন, এ গায়ে এত রেষারেষি কেন বলতে পারেন ? দ্বীন্থ মুখে একটা আওয়াজ করিয়া বার-দুই ঘাড় নাড়িয়া বলিল, হায় রে বাবাজী, আমাদের কুঁয়াপুর ত পদে আছে। যে কাণ্ড এ কদিন ধরে খেদির মামার বাড়িতে দেখে এলুম! বিশ ঘর বামুন-কায়েতের বাস নেই, গায়ের মধ্যে কিন্তু চারটে দল। হরনাথ বিশ্বেস দুটো বিলিতি আমড়া পেড়েছিল বলে তার আপনার ভাগ্নেকে জেলে দিয়ে তবে ছাড়লে । সমস্ত গ্রামেই বাবা এই রকম—তা ছাড়া মামলায় মামলায় একেবারে শতচ্ছিন্দ্ৰ —খেদি, হরিধনের হাতটা একবার বদলে cन ¥ों | রমেশ আবার জিজ্ঞাসা করিল, এর কি কোন প্রতিকার নেই ভট্চাযিামশাই ? প্রতিকার আর কি করে হবে বাবা-এ যে ঘোর কলি! ভট্টাচাৰ্য্য একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, তবে একটা কথা বলতে পারি বাবাজী। আমি ভিক্ষে-পিক্ষে ১৫৭