পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমীর্জ রমা কিছুতেই আর সন্থ করিতে পারিল না, কহিল, তবে আজকেই বা বাড়িতে পেয়ে আমাকে অপমান করছেন কেন ? রমেশ কহিল, অপমান! কিছু না । এর মধ্যে মান-অপমানের কোন কথাই নেই। এ যাদের কথা হচ্চে, সে রমাও কোন দিন তুমি ছিলে না, সে রমেশও আমি আর নেই ! যাই হোক, শোন । সেদিন আমার কেন জানিনে, অসংশয়ে বিশ্বাস হয়েছিল তুমি যা ইচ্ছে বল, যা খুশি কর, কিন্তু আমার অমঙ্গল তুমি কিছুতেই সইতে পারবে না। বোধ করি ভেবেছিলাম, সেই যে ছেলেবেলায় একদিন আমাকে তালোবাসতে আজও তা একেবারে ভুলতে পারনি। তাই ভেবেছিলাম কোন কথা তোমাকে না জানিয়ে, তোমার ছায়ায় বসে অামাব সমস্ত জীবনের কাজগুলো ধীরে ধীরে করে যাব। তার পরে সে রাত্রে আকবরের নিজের মুখে যখন শুনতে পেলাম তুমি নিজে—ও কি বাইরে এত গোলমাল কিসেব ? বাবুগোপাল সরকারেব ত্রস্ত-ব্যাকুল কণ্ঠস্বরে রমেশ ঘরেব বাহিরে আসিতেই সে কহিল, বাবু, পুলিশের লোক ভজুয়াকে গ্রেপ্তার করেচে। কেন ? গোপালের ভয়ে ঠোট কঁাপিতেছিল, কেনমতে কহিল, পরশু রাত্তিরে রাধানগরের ভাকাতিতে সে নাকি ছিল। রমেশ ঘরের দিকে চাহিয়া কহিল, আর এক মুহূর্ত থেকে না রম, খিড়কি দিয়ে বেরিয়ে যাও ; পুলিশ খানাতল্লাশি করতে ছাডবে না রমা নীলবর্ণ-মূখে উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, তোমার কোন ভয় নেই ত ? রমেশ কহিল, বলতে পারিনে। কতদূর কি দাডিয়েচে সে ত এখনো জানিনে। একবার রমাব ওষ্ঠাধর র্কাপিয়া উঠিল, একবার তাহার মনে পড়িল, পুলিশে সেদিন তাহার নিজের অভিযোগ করা–তার পরই সে হঠাৎ কাদিয়া ফেলিয়া বলিল, আমি যাব না। রমেশ বিস্ময়ে মুহূৰ্ত্তকাল অবাক থাকিয়া বলিল, ছি—এখানে থাকতে নেই রম, শীগগির বেরিয়ে যাও, বলিয়া আর কোন কথা না শুনিয়া যতীনের হাত ধরিয়া জোর করিয়া টানিয়া এই দুটি ভাই-বোনকে খিড়কির পথে বাহির করিয়া দিয়া দ্বার রুদ্ধ করিয়া দিল । ᎼóᏄ