পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বুদ্ধিমতী নারীর লেশমাত্র বিলম্ব হইল না। কহিল, আপনি ভাবছেন, আমি ঘর করতে রাজী হ’লেই ত হ’ল না ; আমার সতীন রাজী হবে কিনা, এই ত ? বাস্তবিক, আশ্চৰ্য্য হইয়া গেলাম। বলিলাম, বেশ তাই যদি হয় ত কি করবেন ? এইবার অভয়ার চোখ ছল ছল করিয়া উঠিল। আমার মুখের প্রতি সজল দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া কহিল, এ বিপদে আপনি একটু আমাকে সাহায্য করবেন শ্ৰীকান্তবাবু আমার রোহিণীদাদা বড় সাদাসিদে ভাল মানুষ, তার দ্বারা তখন ত কোন উপকারই হবে না। সম্মত হইয়া বলিলাম, সাধ্য থাকিলে নিশ্চয়ই করব ; কিন্তু এ-সব বিষয়ে বাইরের লোক দিয়ে কাজ ত প্রায় হয়ই না, বরং অকাজই বেড়ে যায়। সে-কথা সত্যি, বলিয়া অভয়া চুপ করিয়া ভাবিতে লাগিল। পরদিন বেলা এগার-বারটার মধ্যে জাহাজ রেজুনে পৌছিবে ; কিন্তু ভোর না হইতেই সমস্ত লোকের মুখেচোখে একটা ভয় ও চাঞ্চল্যের চিহ্ন দেখা দিল । চারিদিক হইতে একটা অস্ফুট শব্দ কানে আসিতে লাগিল, কেরেন্টিন্‌—কেরেন্টিন্‌। খবর লইয়া জানিলাম, কথাটা Quarantine । তখন প্লেগের ভয়ে বৰ্মা গভর্ণমেণ্ট অত্যন্ত সাবধান। শহর হইতে আট-দশ মাইল দূরে একটা চড়ায় কাটাতারের বেড়া দিয়া খানিকটা স্থান ঘিরিয়া লইয়া অনেকগুলি কুঁড়ে ঘর তৈয়ারী করা হইয়াছে; ইহারই মধ্যে সমস্ত ডেকের যাত্রীদের নির্বিচারে নামাইয়া দেওয়া হয়। দশদিন বাস করার পর, তবে ইহারা শহরে প্রবেশ করিতে পায়। তবে যদি কাহারও কোন আত্মীয় শহরে থাকে, এবং সে Port Health Officer-এর নিকট হইতে কোন কৌশলে ছাড়পত্র যোগাড় করিতে পারে, তাহা হইলে অবশ্য আলাদা কথা। ডাক্তারবাবু আমাকে তাহার ঘরের মধ্যে ডাকিয়া লইয়া বলিলেন, শ্ৰীকান্তবাবু, একখানা চিঠি যোগাড় না করে আপনার আসা উচিত ছিল না ; Quarantine-এ নিয়ে যেতে এর মানুষকে এত কষ্ট দেয় যে কসাইখানার গরু-ছাগল-ভেড়াকেও এত কষ্ট সইতে হয় না। তবে ছোটলোকেরা কোন রকমে সইতে পারে, শুধু ভদ্রলোকদেরই মৰ্ম্মান্তিক ব্যাপার। একে ত মুটে নেই, নিজের সমস্ত জিনিসই নিজে কাধে করে একটা সরু সিড়ি দিয়ে নামাতে ওঠাতে হয়—ততদূরে বয়ে নিয়ে যেতে হয়—তার পরে সমস্ত জিনিসপত্র সেখানে খুলে ছড়িয়ে স্টিমে ফুটিয়ে লণ্ডভণ্ড করে ফেলে—মশাই, এই রোদের মধ্যে কষ্টের আর অবধি থাকে না। অত্যন্ত ভীত হইয়া বলিলাম, এর কি কোন প্রতিকার নেই, ডাক্তাবোৰু ? তিনি ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, না । তবে ডাক্তারসাহেব জাহাজে উঠলে একবার আপনার জন্ত বলে দেখব, তার কেরানীবাবুটি যদি আপনার ভার নিতে রাজী—কিন্তু \38