পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন তুমি এ-ভাবে অবজ্ঞা ক’রে না। বহু বহু মানবেই একে সত্য বলে স্বীকার করেচে, মিথ্যে দিয়ে কখন এত লোককে ভোলানো যায় না । • কমল অঙ্কমনস্কের মত একটুখানি হাসিয়া ঘাড় নাড়িল, কিন্তু জবাব দিল সে নীলিমাকে কহিল, যা দিয়ে একটা ছেলেকে ভোলানো যায়, তাই দিয়ে লক্ষ ছেলেকেও ভোলানো যায়। সংখ্যা বাড়াটাই বুদ্ধি বাড়ার প্রমাণ নয় দিদি। একদিন যারা বলেছিল নর-নারীর ভালবাসার ইতিহাসটাই হচ্চে মানব-সভ্যতার সবচেয়ে সত্য ইতিহাস, তারাই সত্যের খোজ পেয়েছিল সবচেয়ে বেশি, কিন্তু যারা ঘোষণা করেছিল পুত্রের জন্যই ভাৰ্য্যার প্রয়োজন তারা মেয়েদের শুধু অপমান করেই ক্ষান্ত হয়নি, নিজেদের বড় হবার পথটাও বন্ধ করেছিল এবং সেই অসত্যের পরেই ভিতু পুতেছিল বলে আজও এ দুঃখের কিনারা হলো না । কিন্তু এ-কথা আমাকে কেন কমল ? কারণ আপনাকে জানানোই আজ আমার সবচেয়ে প্রয়োজন যে, চাটু-বাক্যের নানা অলঙ্কার গায়ে আমাদের জড়িয়ে দিয়ে যার প্রচার করেছিল মাতৃত্বই নারীর চরম সার্থকতা, সমস্ত নারী-জাতিকে তার বঞ্চনা করেছিল। জীবনে যে-কোন অবস্থাই অঙ্গীকার করুন দিদি, এ মিথ্যে নীতিটাকে কখনো যেন মেনে নেবেন না। এ আমার শেষ অনুরোধ। কিন্তু আর তর্ক নয়, আমি যাই । আশুবাবু শ্ৰান্তকণ্ঠে কহিলেন, এসো। নীচে তোমার জন্তে গাড়ী দাড়িয়ে আছে পৌছে দিয়ে আসবে। কমল ব্যথার সহিত বলিল, আপনি আমাকে স্নেহ করেন, কিন্তু কোথাও আমাদের মিল নেই। নীলিমা কহিল, আছে বই কি কমল। কিন্তু সে ত মনিবের ফরমাস-মত কাটাছাট মানান-করা মিল নয়, বিধাতার স্বষ্টির মিল । চেহারা আলাদা, কিন্তু রক্ত এক, চোখের আড়ালে শিরার মধ্য দিয়ে বয়। তাই বাইরের অনৈক্য যতই গণ্ডগোল বাধাক, ভিতরের প্রচণ্ড আকর্ষণ কিছুতেই ঘোচে না । কমল কাছে আসিয়া আশুবাবুর কাধের উপর একটা হাত রাখিয়া আস্তে আস্তে বলিল, মেয়ের বদলে আমার ওপর কিন্তু রাগ করতে পারবেন না তা বলে দিচ্চি। আপ্তবাবু কিছুই বলিলেন না, শুধু স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রছিলেন। কমল কহিল, ইংরাজিতে emancipation বলে একটা কথা আছে; আপনি তো জানেন, পুরাকালে পিতার কঠোর অধীনতা থেকে সস্তানকে মুক্তি দেওয়াও তার একটা বড় অর্থ ছিল। সেদিনের ছেলে-মেয়েরা মিলে কিন্তু এই শব্দটা তৈরী ২৩৯