পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিছুক্ষণ পরে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়। চন্দ্রনাথ কহিল, তোমার বড় ভয়, তাই চাইতে পালে না সংযু, কিন্তু পারলে ভাল হ’ত, না হয়, একটা কাজ কোরো, আমার ঘুমন্ত মুখ ভাল ক'রে চেয়ে দেখো—এ মুখে ভর করবার মত কিছু নেই। বুকে শুয়ে আছ, ভিতরের কথাটা কি শুনতে পাও না ? তাই বড় দুঃখ হয় সরযু—আমাকে তুমি বুঝতেই পারলে না। তৰু সরযু কথা কহিতে পারিল না, শুধু মনে মনে স্বামীর চরণে প্রণাম করিয়া কহিল,"আমিঃপদাশ্রিত দাসী, দাসীকে চিরদিন দাসীর মতই থাকিতে দিয়ে । চতুর্থ পরিচ্ছেদ চন্দ্রনাথের মাতুলানী করকালীর মনে আর তিলমাত্র মুখ রহিল না। ভগবান তাহাকে এ কি বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলিয়া দিলেন ? এ সংসারটা যদি কাহারে নিকট কণ্টকণকীর্ণ অরণ্যের মত বোধ হয় তাহীদের চেষ্টা করিয়া এখানে একটা পথের সন্ধান করিতে হয়। কেহ পথ পায়, কেহ পায় না। অনেক দিন হইতে হরকালীও এই ংসার-কাননে একটা সংক্ষেপ-পথ খুজিতেছিল, চন্দ্রনাথের পিতার মৃত্যুতে একটা স্বরাহাও হইয়াছিল। কিন্তু এই আকস্মিক বিবাহ, বন্ধু সরযু, চন্দ্রনাথের অতিরিক্ত পত্নী-প্রেম, তাহার এই পাওয়া-পথের মুখটা একেবারে পাষাণ দিয়া যেন গাথিয়া দিল । হরকালীর একটি বছর-পাচেকের বোন্‌ঝি পিতৃগৃহে বড় হইয়া আজ দশ বছরেরটি হইয়াছে। কিন্তু সে কথা যাকৃ। নানা কারণে হরকালীর মনের সুখ-শাস্তি অস্তৰ্হিত হইবার উপক্রম করিয়াছিল। অবগু আজও সে-ই গৃহিণী, তাহার স্বামী কর্তা—এ সমস্ত তেমনিই আছে। আজ পৰ্য্যস্ত সরযু তাহারই মুখ চাহিয়া থাকে, কোন অসন্তোষ বা অভিমান প্রকাশ করে না। দেখিলে মনে হয়, সে এই পরিবারভুক্ত একটি সামান্ত পরিজন মাত্র। হরকালীর স্বামী এইটুকু দেখিয়াই খুশী হইয়া যেই বলিতে যায়—বেীমা আমার যেন—হরকালী চোখ রাঙা করিয়া ধমক দিয়া বলিয়া উঠে, চুপ কর, চুপ কর। ষা বোঝ না, তাতে কথা কয়ো না । তোমার হাতে দেওয়ার চেয়ে বাপ-মা আমাকে হাত-পা বেঁধে জলে ফেলে দিলে ছিল ভাল । ব্রজকিশোর মুখ কালি করিয়া উঠিয়া যায়। ছরকালীর বয়স প্রায় ত্রিশ হইতে চলিল, কিন্তু সায় আৰু পঞ্চদশ উত্তীর্ণ 99敏