পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বেলা আটটা-ময়টার সময় আমরা বাটীতে ফিরিতে উদ্যত হইলে, সেদিন তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাস্ত পৰ্য্যস্ত আসিলেন । যাবার সময় ইন্দ্রের একটা হাত ধরিয়৷ বলিলেন, ইন্দ্রনাথ, শ্ৰীকাস্তকে আশীৰ্ব্বাদ করলুম বটে, কিন্তু তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করি, সে সাহস আমার হয় না। তুমি মাহুষের আশীৰ্ব্বারে বাইরে। তবে ভগবানের ঐচরণে তোমাকে মনে-মনে আজ সঁপে দিলুম। তিনি তোমাকে যেন আপনার ক’রে নেন । ইন্দ্রকে তিনি চিনিতে পারিয়াছিলেন। তাছার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও ইন্দ্র জোর করিয়া তাহার দুই পায়ের ধূলা মাথায় লইয়া তাহাকে প্রণাম করিল। কাম-কাজ হইয়া বলিল, দিদি, এ জঙ্গলে তোমাকে একল ফেলে রেখে ষেতে আমার কিছুতেই মন সরচে না । আমার কি জানি কেন কেবলি মনে হচ্ছে তোমাকে আর দেখতে পাব না । দিদি জবাব দিলেন না। সহসা মুখ ফিরাইয়া চোখ মুছিতে মুছিতে সেই বনপথ ধরিয়া তাহার শোকাচ্ছন্ন শূন্ত কুটীরে ফিরিয়া গেলেন। যতক্ষণ দেখা গেল, তাহাকে দাড়াইয়া দেখিলাম। কিন্তু একটিবারও আর তিনি ফিরিয়া চাহিলেন ন—তেমনি মাথা নত করিয়া একভাবে দৃষ্টির বাহিরে মিলাইয়া গেলেন। অথচ কেন যে তিনি ফিরিয়া চাহিলেন না, তাহা দুজনেই মনে-মনে অনুভব করিলাম । তিনদিন পরে স্কুলের ছুটির পর বাহির হইয়াই দেখি, ইন্দ্র গেটের বাইরে দাড়াইয়া আছে । তাহার মুখ অত্যন্ত শুষ্ক, পায়ে জুতা নাই—হঁাটু পর্যন্ত ধূলায় ভরা। এই অত্যন্ত দীন চেহারা দেধিয়া ভয় পাইয়া গেলাম। বড়লোকের ছেলে, বাহিরে সে একটু বিশেষ বাবু। এমন অবস্থা তাহার আমি ত দেখিই নাই—বোধ করি আর কেহও দেখে নাই । ইশারা করিয়া মাঠের দিকে আমাকে ডাকিয়া লইয়া গিয়া ইন্দ্র বলিল, দিদি নেই—কোথায় চলে গেছেন। আমার মুখের প্রতিও আর সে চাহিয়া দেখিল না। কহিল, কাল থেকে আমি কত জায়গায় যে খুজেচি, কিন্তু দেখা পেলাম না । তোকে একখানা চিঠি লিখে রেখে গেছেন, এই নে, বলিয়া একখানা ভাজ করা হলদে রঙের কাগজ আমার হাতে গুজিয়া দিয়াই সে আর একদিকে ক্রতপদে চলিয়া গেল। বোধ করি, হৃদয় তাহার এতই পীড়িত, এতই শোকাতুর হইয়াছিল ষে, কাহারও সঙ্গ বা কাহারও সহিত আলোচনা তাহার সাধ্যাতীত হইয়া উঠিয়াছিল । সেইখানেই আমি ধপ, করিয়া বসিয়া পড়িয়া ভাঙ্গ খুলিৰ কাগজখানি চোখের সামনে মেলিয়া ধরিলাম। চিঠিতে মাহ লেখা ছিল, এতকাল পরে তাহার সমস্ত কৰা মচি মনে নাই, তথাপি অনেক কথাই স্মরণ করিতে পারি। চিঠিতে লেখা 48